advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনলাইনে পেঁয়াজ মিলবে ৩৬ টাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৫
advertisement

অন্য পণ্যের মতো এখন সাশ্রয়ীমূল্যের পেঁয়াজও ক্রেতারা ঘরে বসে কিনতে পারছেন। ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির ধারণা নতুন। ভারতের রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর দেশে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এরপর সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। ফলে ক্রেতারা এখন ঘরে বসেই পাবেন পেঁয়াজ। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ এখন থেকে

অনলাইনে ঘরে বসেই কেনা যাবে। প্রতিকেজির দাম পড়বে ৩৬ টাকা। একজন গ্রাহক একবারে তিন কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। একবারে সরবরাহ বা ডেলিভারি চার্জ বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নিতে পারবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।

গতকাল রবিবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে টিসিবির পেঁয়াজ অনলাইনে বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি। তিনি বলেন, অনেকেই সামাজিক কারণ ও সময়ের অভাবে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে পারেন না। এ ছাড়া টিসিবির ট্রাকসংখ্যা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত। তাই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে বড় ধরনের আমদানি ও সাশ্রয়ীমূল্যে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। যারা ট্রাকসেল থেকে কিনতে পাচ্ছেন না, তাদের জন্য টিসিবি ই-কমার্সের সহযোগিতায় সাশ্রয়ীমূল্যের পেঁয়াজ বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও আমদানি করা পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ভারত ইতোমধ্যে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এগুলো বাংলাদেশে আনা শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেবে ভারত। মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়াও অনেক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। দেশে পেঁয়াজের কোনো সংকট হবে না। আমরা অস্থির না হয়ে শুধু প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ ক্রয় করলে কোনো সমস্যা হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামে এ পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ই-কমার্সের আওতায় দেশের সব স্থানে টিসিবি সাশ্রয়ীমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। এ জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ই-কমার্স ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করেতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের ই-কমার্সে পেঁয়াজ পেতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৬ টাকা মূল্যে ৩ কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। পরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারমম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (আমদানি) হাফিজুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক এবং ই-কমার্স প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, ই-কমার্সের প্রেসিডেন্ট শমি কায়সার, চালডাল কর্মসূচির পরিচালক ইসরাত জাহান নাবিলা ও নাদিয়া বিনতে আমীন।

advertisement
Evaly
advertisement