advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৩৫ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:৫১
বর্তমানে প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত আবদুল মালেক
advertisement

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ (র‌্যাব) কর্তৃক গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে চালক আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজধানীর তুরাগ থানায় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব-১। আজ সোমবার দুটি মামলায় মালেককে আদালতে তোলা হতে পারে।

গতকাল রোববার মালেককে গ্রেপ্তারের সময় র‍্যাব জানিয়েছিল, বদলি বাণিজ্যের কথা স্বীকার করেছেন গাড়ি চালক মালেক। তার ঢাকায় তিনটি বাড়ি ও পনের কাঠা জমির ওপর ডেইরি ফার্ম আছে। এছাড়া তিনি একই পরিবারের সাতজনকে চাকরি দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। তবে মালেকের পরিবার দাবি করেছে, হাতিরপুল ও তুরাগে তার যে জমি রয়েছে তা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি, গতকাল রোববার ভোরে কামারপাড়ার নিজ বাসা থেকে মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ টাকার জালনোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংকে মালেকের নামে-বেনামে বিপুল অর্থ গচ্ছিত থাকার তথ্যও মিলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে চাকরির পর বর্তমানে প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত আবদুল মালেক। তার বিলাসবহুল জীবন আর হাবভাব দেখলে অবশ্য তা মনে হতো না। স্ত্রীর নামে ঢাকার তুরাগ থানাধীন দক্ষিণ কামারপাড়ায় করেছেন ২৪টি ফ্ল্যাটের দুটি সাততলা বিলাসবহুল ভবন। মিরপুর মাজারসংলগ্ন ১৫ কাঠা জমিতে বানিয়েছেন ডেইরি ফার্ম। ধানমন্ডির হাতিরপুল এলাকায় সাড়ে চার কাঠা জমিতে তৈরি করছেন ১০ তলা ভবন, আছে ১২ কাঠার প্লট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মালেক এমনই প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ-বদলি সবই চলত তার ইশারায়। অভিযোগ আছে, কোনো কর্মকর্তা যদি মালেকের সুপারিশ না শোনেন তাহলে তাকে ঢাকার বাইরে বদলিসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও হতে হতো। শুধু তাই নয়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের জন্য বরাদ্দকৃত পাজেরো জিপও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন মালেক। তার অপকর্মের পরিধি অবশ্য এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরাগ এলাকায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র ব্যবসা, জালনোটের ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও।

র‌্যাব ১’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, সম্প্রতি অনুসন্ধানে তুরাগ এলাকায় আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জাল টাকার ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টিরও অভিযোগ আসে। তার ভয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করত। অনুসন্ধানে মালেকের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান ও সম্পদের অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়। একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণে অর্থ গচ্ছিত আছে। র‌্যাব-১ বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ছায়া তদন্ত শুরু করে।

জানা যায়, মালেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। ১৯৮২ সালে সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে চালক হিসেবে তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে চালক হিসেবে চাকরি শুরু হয়। বর্তমানে তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত। গ্রেপ্তারের পর মালেক অস্ত্র ও জালনোটের ব্যবসাসহ ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও জাল টাকার ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক দুটি মামলা হবে। এরই মধ্যে মালেককে রাজধানীর তুরাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে র‌্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে মালেক প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। নিজেই সংগঠনের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। অভিযোগ আছে, মালেকের রয়েছে তেল চুরির সিন্ডিকেট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যত গাড়ির চালক তেল চুরি করে তার একটি অংশ মালেককে দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি পুরো অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে ডাক্তার বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ-বদলিও ছিল তার হাতে। প্রভাব খাটিয়ে নিজের মেয়ে নওরিন সুলতানা বেলিকে অফিস সহকারী পদে, ভাই আবদুল খালেককে অফিস সহায়ক পদে, ভাতিজা আবদুল হাকিমকে অফিস সহায়ক, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার, ভাগ্নে সোহেল মাহবুবকে ড্রাইভার, নিকট আত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরিও নিয়ে দিয়েছেন। এমনকি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের জন্য বরাদ্দকৃত একটি সাদা রঙের পাজেরো জিপ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন মালেক। এ ছাড়া অধিদপ্তরের আরও দুটি গাড়িও ব্যবহার করতেন ব্যক্তিগত কাজে। কয়েকশ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে মালেককে ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর তলবও করেছিল দুদক।

advertisement
Evaly
advertisement