advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুমিল্লায় শিশু হত্যা
গ্রেপ্তারের ১৬ বছর পর খালাস পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:১৭ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:১৭
প্রতীকী ছবি
advertisement

কুমিল্লার লাকসামের কনকশ্রী গ্রামের প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়া এক শিশু (৮) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি হুমায়ূন কবিরকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামির জেল আপিল গ্রহণ করে আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০০৪ সালের ৪ জুলাই গ্রেপ্তারের পর থেকে বিগত ১৬ বছর ধরে কারাবন্দী রয়েছেন আসামি হুমায়ূন কবির। এ রায়ের ফলে তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ।

আদালতে জেল আাপিলের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ বলেন, ‘এ মামলায় শিশুটির বাবাসহ ১২ জন সাক্ষী দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সাক্ষ্যই বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্য দেয়নি। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে শিশুটির লাশ উদ্ধারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন। অথচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিচারের সময় জেরা করা হয়নি। মামলার একমাত্র আসামি হুমায়ুন কবির তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন শিশুটি তার খালাত বোনের মেয়ে। আর শিশুটির বাবা সাক্ষ্যে বলেছেন হুমায়ুন কবিরকে তিনি চেনেন না। আবার শিশুটির মাকেও এ মামলায় সাক্ষি করা হয়নি।’

তিনি বলেছেন, ‘শিশুটির মাকে সাক্ষি করা হলে জানা যেত হুমায়ুন কবির আদৌ পরিচিত কেউ কিনা। ফলে এখানে সন্দেহ রয়ে গেছে। তাছাড়া প্রত্যদর্শী দুই শিশুকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের সাক্ষ্যে যথেষ্ট অসামঞ্জস্য ছিল। মূলত মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠতার অভাব, অসামঞ্জস্যতা ও নানা ত্রুটির কারণেই হুমায়ুন কবিরকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

জানা যায়, ২০০৪ সালের ৩০ জুন কনকশ্রী গ্রামের সাকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশুটি বেলা সোয়া ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু স্কুল ছুটি হওয়ার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় স্কুলে খোঁজ করে তার অভিভাবকরা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে শিশুটি স্কুলে যায়নি। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় সাধারণ ডয়রি (জিডি) করেন শিশুটির চাচা মো. জসীম উদ্দিন।

সাকেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যদর্শী দুই শিার্থীর বরাত দিয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়, স্কুলে যাওয়ার পথে মাথা ব্যথায় শিশুটিকে সাকেরা গ্রামের মাস্টার বাড়ির পাশে কালভার্টের ওপর শুয়ে পড়তে দেখে তারা। এসময় আরও পাঁচ থেকে ছয়জন ছিল সেখানে। সে সময় হুমায়ুন কবির এসে সবাইকে তাড়িয়ে দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থী যাওয়ার সময় শিশুটিকে বাড়ি যেতে বললে হুমায়ুন কবির শিশুটির মামা পরিচয় দিয়ে বলে সে শিশুটিকে বাড়ি পৌঁছে দিবে। শিশুটিও বলে সে তার মামার সঙ্গে যাবে।

এজাহারে শিশুটির চাচা মো. জসীম উদ্দিনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির আমার ভাতিজিকে বাড়ি পৌঁছে না দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে কোনো নারী ও শিশু পাচারকারীর কাছে বিক্রি করে দেয় অথবা আটকে রাখে। পরে এ ঘনায় আইগত ব্যবস্থার আরজি জানিয়ে লাকসাম থানায় এজাহার দায়েরের পর

২০০৪ সালের ২ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলা করার দুই দিন পরেই অর্থাৎ ৪ জুলাই পেশায় ট্রাক ড্রাইভার হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই কালভার্টের পাশে জঙ্গলের ভেতর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশের সুরতহাল ও ময়না দতন্ত ও তদন্তের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এ মামলার বিচার শেষে ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এইচ এম মোস্তাক আহমেদ রায় দেন। রায়ে হুমায়ুন কবিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারক।

রায়ের পর মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাতে অনুমতি চেয়ে আবেদন)হাইকোর্টে আাসে। এছাড়া আসামি একটি জেল আপিল করেন। ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ডেথরেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির পর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৫ এপ্রিল জেল থেকে আবেদন (জেল পিটিশন) করেন হুমায়ুন কবির। পরে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল আবেদনটি আপিল হিসেবে গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত। ওই জেল আপিলের শুনানির পর মঙ্গলবার হুমায়ুন কবিরকে খালাস দিয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ।

advertisement
Evaly
advertisement