advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রচারে সরগরম মাঠ

সুশান্ত কুমার সরকার ও শেখ ওয়াহেদ আলী সিন্টু, পাবনা
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:০৩
advertisement

আর মাত্র তিন দিন বাকি। আগামী শনিবার হতে যাচ্ছে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আসনের উপনির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ‘আদাজল খেয়ে’ মাঠে নেমেছেন প্রার্থী এবং তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। এই উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রধান এই দুই দলের প্রর্থী এবং তাদের নেতাকর্মীরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এ ছাড়া উঠানবৈঠক, দেখা-সাক্ষাৎ, ঘরোয়া মিটিং, পথসভা, বর্ধিতসভাও চলছে।

পাবনা-৪ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৫ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৯টি। উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জাতীয় পার্টির রেজাউল করিম।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আসনটি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী মরহুম শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এ আসন থেকে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে আসনটি হাতছাড়া বিএনপির। এবার সেই আসনটি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছে দলটি। নির্বাচনে জয়লাভের জন্য মরিয়া তারা। এদিকে বরাবরের মতো আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে একাট্টা আওয়ামী লীগ। এদিকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীও। আসনটিতে জাতীয় পার্টির সমর্থক কম থাকায় প্রচারে পিছিয়ে আছেন লাঙলের প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মাঠ সরগরম রাখতে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী এলাকা মিটিং সমাবেশ করছেন।

অতীত বিশ্লেষণ জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৬টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পাঁচবার এবং বিএনপি একবার বিজয় লাভ করেছে। এ আসন থেকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার ’৯০-এর গণআন্দোলনের তুখড় ছাত্রনেতা আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে পরাজিত করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামসুর রহমান শরীফ কাছে সিরাজুল সরদার পরাজিত হন। ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর কাছে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পরাজিত হন।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখলে বিশ্বাসী নয়। ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমি ছাড়া আরও দুটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ আসনের মানুষ আমাকে ভালোবেসে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী যেসব উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছিলেন, তার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নসহ সরকারের উন্নয়নমুখী কাজ করতে চাই।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ এলাকার মানুষ বিএনপি সমর্থক। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি নিশ্চয়ই জয়লাভ করবে। সরকারকে বলতে চাই, এ আসনটি নেওয়ার জন্য যেন বিতর্কিত কিছু না করা হয়।

এদিকে উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রচারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং মাস্ক পরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন সুশীল সমাজ।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তা রায়হান কুদ্দুস ও সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিটি বুথের সামনে হাত ধোয়ার জন্য সাবান, পানি ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকবে। এ ছাড়া যারা ভোট গ্রহণ করবে তাদের হ্যান্ডগ্লাবস, মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ পরার নির্দেশনা রয়েছে। ভোটারদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং ভোটের লাইনে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে।

পাবনা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ শেখ জানান, পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া সব ধরনের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য প্রার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুর পর এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

advertisement
Evaly
advertisement