advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্রেওনা টেইলর হত্যাকাণ্ড : লুইভিলে বিক্ষোভ, ২ পুলিশ গুলিবিদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:১৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:১৬
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ছয় মাস আগে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে পরিচালিত অভিযানে কৃষ্ণাঙ্গ নারী ব্রেওনা টেইলরের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ না আনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে কেনটাকির লুইভিল। গতকাল বুধবার রাতে শহরটির বিভিন্ন অংশে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদের মধ্যেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

লুইভিলের পুলিশপ্রধান রবার্ট শ্রোয়েডার জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ দুই কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেওনা টেইলর হত্যাকাণ্ডে পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করা হবে কিনা, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই শহরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। লুইভিলের মেয়র গ্রেগ ফিশার রাত ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করলেও অনেক এলাকায় রাত ৯টার পরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার সেখানে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

পরে বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, সহিংসতার জবাব কখনোই সহিংসতা হতে পারে না। আমরা এখন ওই দুই কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কথা ভাবছি। আমি সবার প্রতি অনুরোধ করছি, দয়া করে বাড়ি ফিরে যান।’

এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, বুধবার ২৬ বছর বয়সী ব্রেওনা টেইলর হত্যাকাণ্ডে কেবল এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সামান্য অপরাধের অভিযোগ আনার পর লুইভিলের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন । কোথাও কোথাও তারা পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন।

ব্রেওনার আত্মীয়স্বজন এবং পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা মার্চে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার দাবি জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ পর্যালোচনার পর গ্র্যান্ড জুরি অ্যানি ও’কনেল কেবল ব্রেট হ্যানকিনসনের বিরুদ্ধে হালকা অপরাধের অভিযোগ এনেছেন, বাকি দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই আনা হয়নি।

ব্রেওনার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের উদ্দেশ্য করে অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যানিয়েল ক্যামেরন বলেছেন, ‘সন্তান, ভাতিজি, বোন ও বন্ধু হারানোর শোক আর বেদনাকে দূরে সরিয়ে দিতে তাদেরকে আজ কিছুই দিতে পারছি না আমি।’

মার্চে ব্রেওনার ফ্ল্যাটে অভিযানে আইনের কোনো লংঘন হয়েছিল কিনা, এফবিআই তা খতিয়ে দেখছে।

গ্র্যান্ড জুরি ও’কনলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ব্রেওনার পরিবারের আইনজীবী। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ না আনাকে ‘আপত্তিকর ও অপমানজনক’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের আগেই কর্মকর্তারা চলতি মাসে ব্রেওনার পরিবারকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছিলেন।

গ্র্যান্ড জুরির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কেনটাকির রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রশংসাও করেছেন।

advertisement
Evaly
advertisement