advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনে আন্তর্জাতিক দাবা আসর শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:০৬
advertisement

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট ২০২০। গতকাল রাজধানীর প্রগতি সরণির কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এ টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন হয়েছে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতা ও গোল্ডেন স্পোর্টিং ক্লাবের সহযোগিতায় ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। এ টুর্নামেন্টের পুরো আয়োজন হচ্ছে অনলাইনে। সুইস লিগ সিস্টেমে ৯ রাউন্ডের এ টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি ধরা হয়েছে ছয় হাজার ডলার। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও দক্ষিণ এশিয়া দাবা কাউন্সিলের সভাপতি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করতে পেরেছি। এর পুরো কৃতিত্ব দিতে চাই চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে।’

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় দাবার এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে জানান আইজিপি বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সাউথ এশিয়ান চেস কাউন্সিল ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের অধীনে আমরা এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। একটা জায়গা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে একটা স্পোর্টস হল থাকবে। সেখানে যে কেউ যে কোনো সময় এসে দাবা খেলতে পারবে।’ দাবায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন ও সার্বক্ষণিক কোচ নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে স্কুল দাবার আয়োজন করব, যেখান থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ নতুন খেলোয়াড় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।’ বিশেষ অতিথি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢলের কারণে নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছি। সংকটের সময়ে লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা দেখিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। এভাবেই মহান চিন্তাবিদেরা নেতৃত্ব দেন। তাদের নেতৃত্বে থাকে মহানুভবতা, সহমর্মিতা এবং প্রজ্ঞা।’ চৌধুরী নাফিজ সরাফাত আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো আমাদের স্বপ্ন দেখতে, নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু করতে এবং নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত ও ভাগ্যবান মনে করছি।’ টুর্নামেন্ট আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকেও ধন্যবাদ জানান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ক্রীড়া হিসেবে দাবার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কথায় আছে- দাবা এমন এক খেলা যেটাকে আপনি যেমন ইচ্ছা রূপ দিতে পারেন। এটি ভাষা, বয়স, গোত্র, ধর্ম, রাজনীতি, লিঙ্গ এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে।’

দাবার এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বসেরা ও মননশীলন মস্তিষ্কগুলোকে একসঙ্গে করার অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক মঞ্চ বলেও মন্তব্য করেন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তিনজন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, এনামুল হোসেন রাজীব ও রিফাত বিন সাত্তার অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া আছেন ভারতের পাঁচ, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের দুজন করে গ্র্যান্ডমাস্টার। ইরান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের গ্র্যান্ডমাস্টাররাও অংশ নিচ্ছেন প্রতিযোগিতায়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে হবে টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

advertisement
Evaly
advertisement