advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুন্সীগঞ্জে রেলমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পে বড় সমস্যা নেই

মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও শিবচর প্রতিনিধি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:১৭
advertisement

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, পদ্মা সেতুর ত্রুটি ধরা পড়েছে- এটি এখনই বলার সময় আসেনি। আমরা দেখার জন্য এসেছি। রেলসংযোগ প্রকল্পে খুব যে বড় ধরনের সমস্যা তা নয়। আদৌ সমস্যা আছে কিনা তাও বলা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিশেষজ্ঞরা মতামত দেবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে রেলসংযোগ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলে তিনি। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

রেলমন্ত্রী পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ

প্রকল্পসহ সার্বিক কাজ পরিদর্শন শেষে দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরে পদ্মা সেতুর রেললাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সুবিধার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

মাওয়ায় রেলমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে রেলের যেভাবে কাজ চলছে, সেটির ব্যাপারে সড়ক বিভাগ নতুন ধরনের শর্ত দিয়েছে; কিন্তু তারা এখনো নকশা দেয়নি। যেহেতু এটি ইঞ্জিনিয়ারিং সংশয়, তাই আমাদের এক্সপার্টরা এটি নিয়ে বসবেন। যদি নকশা কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং মতানৈক্য হয়, তবে আমরা আশা করছি তারাই এটি পুনঃসংশোধন করতে পারবেন। সেতু বিভাগ ও রেল বিভাগের কাছে ডিজাইন চাওয়া হয়েছে। তারা ডিজাইন দিলেই পুনঃসংশোধন করা হবে। অন্য কোথাও কোনো সমস্যা নেই। শুধু সেতুতে রেল নামা ও ওঠার সময় সমস্যার কথা উঠেছে, এ ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, এটি একটি জাতীয় প্রকল্প, ত্রুটি শব্দটির সঙ্গে আমরা একমত নই। ত্রুটি তখনই হবে যখন এটি চূড়ান্তভাবে হবে। এখনো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, কিন্তু সংশয় যেটি দেখা দিয়েছে, এ রকম হয়তো আরও দেখা দিতে পারে। পৃথিবীর যে কোনো প্রকল্পেই এমন হতে পারে। তবে এখনো নকশা চূড়ান্ত হয়নি, আমাদের কাছে সময় আছে। যেহেতু এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাই উচ্চতর পর্যায় আলোচনা করে অবশ্যই সমাধান করা হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে জাজিরায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সেতুর বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং ২০২২ সালের মধ্যে নিশ্চিতভাবে সড়কপথসহ চালু হবে রেলপথ। ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে জাজিরা প্রান্ত পর্যন্ত রেলের কাজ ৫৫ শতাংশ ও ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ শেষ হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ভাঙ্গা থেকে যশোর, পায়রা বন্দর ও চট্টগ্রামের সঙ্গে রেলপথ সংযোগ করার বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

পরে শিবচরের পাঁচ্চরে পদ্মা সেতুর রেললাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সুবিধার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী। এ সময় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর-কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) ও রেলওয়ের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বেসরকারি সংস্থা র্ডপের আয়োজনে পদ্মা সেতুর রেললাইনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ পরিবারের মাঝে এক কোটি ১২ লাখ টাকার পুনর্বাসন সুবিধার চেক দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, সিএসসির প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এফএম জাহিদ হোসেন, র্ডপের চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদার, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
Evaly
advertisement