advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতির তদন্ত প্রতিবেদন শিগগির : ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:১৭
advertisement

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি শিগগির প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর জালিয়াতির চক্রে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘দুর্নীতি ও এনআইডি জালিয়াতি রোধে

নেওয়া পদক্ষেপ’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে এনআইডি উইং ডিজি আরও জানান, এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে চাকরিচ্যুত করা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদকালে দুই লাখ সাত হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্যসহ পৃথক রোহিঙ্গা ডেটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যেও জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গত বছর ঘটনা তদন্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অনুসন্ধান টিম পাঠানো হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কারিগরি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়।

এনআইডি উইং ডিজি বলেন, গত শুক্র, শনি, রবি ও সোমবার তদন্ত কমিটি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডেটা এন্ট্রির কাজের ল্যাপটপ খোয়া যাওয়ার পর সেগুলো কে কে ব্যবহার করেছে, কীভাবে তা ব্যবহৃত হয়েছে, ঘরে-বাইরে কারা সম্পৃক্ত ছিল এ জালিয়াতিতে- প্রতিটি বিষয় আমরা অ্যানালাইসিস করছি। এখন তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দেবে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অনৈতিক কাজ করলে কাউকেই ছাড়া দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন বা এনআইডি উইংয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হোক তা আমরা কিছুতেই চাই না। জালিয়াতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত দুই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে প্রকল্প থেকে চাকরিচ্যুত করা ছাড়াও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিজি আরও বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত এসব লোকবল অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হলে চাকরিচ্যুত করা হয়। কিন্তু এর পরও অনেকে কৌশলে জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ে। এ জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো জালিয়াতকারীকেই ছাড় দেব না।

এনআইডি উইং মহাপরিচালক জানান, ভোটার তালিকায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে বরাবরই স্থানীয় বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এটি কারও একার নয়, সামগ্রিক দায়িত্ব। এনআইডি পেতে হলে যেসব দলিল প্রয়োজন হয়, রোহিঙ্গারা কীভাবে সেগুলো পায়, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দুই লাখ সাত হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছি। যারা দ্বৈত হয়েছে আমরা তাদের নোটিফাই করছি। এসএমএসের মাধ্যমেও তাদের জানিয়ে দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার মোবাইল ফোন নম্বর না থাকায় আমরা উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তাদের অবহিতকরণের ব্যবস্থা করছি।

দ্বৈত ভোটার পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে বিধি মোতাবক প্রথমটি রেখে পরবর্তী ভোটার তথ্য ব্লক করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ৯৩৭ জনের এনআইডি লক করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছে। এ কাজে ইসির কারও সম্পৃক্ততা ও অবহেলা পাওয়া গেলে এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব দ্বৈত ভোটারের বিষয়গুলো আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা দেখছি উদ্দেশ্য কী ছিল। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। কেউ যদি বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আবেদন করেন, আমরা তা যাচাই-বাছাই করব, কোন উদ্দেশে এটি করা হয়েছে সেই কারণটি জানব। এর পর তা কমিশনকে অবহিত করে আমরা ব্যবস্থা নেব।

কুষ্টিয়ায় এনআইডি জালিয়াতির বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে এনআইডির ডিজি বলেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে এর তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছয়জনের এনআইডি ব্লক করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশব্যাপী এনআইডি কার্যক্রম তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান চলবে জানিয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ৪টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার প্রত্যেক থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযান নিয়মিত চলবে। প্রতিমাসে জেলা উপজেলায় অভিযান চলবে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement
Evaly
advertisement