advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমান্তে গরু পাচার
বিএসএফ জওয়ানসহ আটক ৪

আমাদের সময় ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:১৭
advertisement

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে আটক করেছে সে দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে সীমান্তে গরুসহ বিভিন্ন পণ্য পাচার করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

আটককৃত বিএসএফ কর্মকর্তার নাম সতীশ কুমার। এ ছাড়া যাদের আটক করা হয়েছে তারা হলেন- মোহাম্মদ এনামুল হক, আনারুল এসকে ও মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। বিএসএফ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর সিবিআই বিভিন্ন শহরে গত বুধবার অভিযান শুরু হয়। এর মধ্যে দিল্লি, কলকাতা, শিলিগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, গাজিয়াবাদ, অমৃতসর ও রাইপুরের নাম রয়েছে। অভিযানে তাদের আটকের খবর জানিয়েছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

মজার ব্যাপার হলো, এনামুল হক আরেকজন বিএসএফ জওয়ানের সঙ্গেও ঘুষ লেনদেন করতেন। ওই জওয়ানের

নাম জিবু ডি মিঠু, যাকে সিবিআই ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই এনামুল হক অবৈধ চোরাচালান নির্বিঘœ করার জন্য মিঠুকে ৫০ লাখ রুপি ঘুষ দিয়েছিলেন। এ কারণে এনামুলকে গ্রেপ্তার করতে চলতি বছর জানুয়ারি মাসেও সিবিআই অভিযান চালিয়েছিল।

সিবিআই জানিয়েছে, সীমান্তে অভিনব কায়দায় এই গরু ও অবৈধ পণ্য পাচার হয়। নিয়ম মেনে বিএসএফ কর্মকর্তারা গরু আটক করে। কেননা খাতা-কলমে তাদের দেখাতে হয় যে কতজন পাচারকারীকে আটক ও কত সংখ্যক গরু উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আসল কা- শুরু হয় তারপর! মালদা, মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ বাজেয়াপ্ত গরুকে খাতা-কলমে বাছুর বানিয়ে দেয়। খাতায় বাছুর অথচ বাস্তবে পূর্ণবয়স্ক গরুকে নিয়ে এর পর বাজারে যাওয়া হয়। সেখানে সেই গরুর বাছুর হিসেবে নিলাম হয়। অর্থাৎ খুব কম টাকায় তা বিক্রি করা হয়। যারা সেই গরু কিনে নেয়, তারা মূলত পাচারকারী। নিলাম এমনভাবে করা হয়, যাতে পাচারে বাজেয়াপ্ত গরু ফের পাচারকারীর হাতেই পৌঁছায়। প্রতিটি নিলামে বিএসএফের অভিযুক্ত অফিসারদের দেওয়া হয় গরুপ্রতি দুই হাজার রুপি। শুল্ক বিভাগের অফিসারদের দেওয়া হয় ৫০০ রুপি। পাচারকারীরা ফের সেই গরু সীমান্তের অন্য পারে পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয়বার তাদের গরু আর ধরা হয় না।

অভিযুক্ত বিএসএফ অফিসারের নাম সতীশ কুমার। তিনি বিএসএফ-এর ৩৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। তার সল্টলেকের বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভিন রাজ্যে তার আরও বাড়ি আছে। মালদায় পোস্টেড হলেও মালদা মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের দীর্ঘ সীমান্তে কাজ করেছেন তিনি। সেই সময়েই গরু পাচারের ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। তার ছেলেও একই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

advertisement
Evaly
advertisement