advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করবে স্কুলগুলো

এম এইচ রবিন
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৩২
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আগে স্কুলগুলোয় আড়াই মাসের মতো ক্লাস হয়েছে। এর পর থেকে সংসদ টেলিভিশন ও অনলাইনে পাঠদান সম্প্রচার করা হচ্ছে। এই পড়ালেখার ভিত্তিতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে শিক্ষা প্রশাসনের। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি করবে পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু)। ষষ্ঠ ও সপ্তমের বিষয়ে গাইডলাইন করবে এনসিটিবি।

শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার ক্ষতি হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের যে হার, তাতে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি ধরে একের পর এক প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্কুল খুললে তা বাস্তবায়ন করে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, প্রতিদিন এমন সংক্রমণের মধ্যে ডিসেম্বরের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদৌ খোলা যায় কিনা সেটা নিয়েই চিন্তা। মাসের পর মাস পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সংক্রমণ পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি হচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মতো সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসতে হবে। যা কিছু আমরা পরিকল্পনা করছি সবই প্রস্তুতিমূলক, কোনোটা চূড়ান্ত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টেক হোল্ডার

হিসেবে আমরা সুপারিশ করতে পারি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

করোনা মহামারীর কারণে এবারের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা হয় ২৭ আগস্ট। এর আগে পঞ্চম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেএসসি না হলেও অষ্টমের শিক্ষার্থীদের কিভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে, সে বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন দেশের সবকটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি সুপারিশ পেশ করা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। চেয়ারম্যানরা জেএসসি পরীক্ষা না হলেও শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব যে কোনো পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করেই শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার। মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে একটি গাইডলাইন করার মত বোর্ড কর্মকর্তাদের। বছরের প্রথম যে আড়াই মাস ক্লাস নেওয়া হয়েছে, ততটুকু সিলেবাস এবং করোনাকালে অনলাইনে যে পাঠ সম্প্রচার হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই স্ব স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। এ জন্য একটি বিস্তারিত গাইডলাইন দরকার।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক আমাদের সময়কে বলেন, জেএসসির বোর্ড পরীক্ষা বাতিল হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ব্যবস্থায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যে কোনো পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বেডু) গাইডলাইন তৈরি করে দেবে। এই গাইডলাইন তৈরি হবে শিক্ষাবর্ষের প্রথম আড়াই মাস (জানুয়ারি-১৫ মার্চ) পর্যন্ত যতটুকু ক্লাস হয়েছিল সেটি এবং এরপর সংসদ টিভি ও অনলাইনে যতটুকু ক্লাস সম্প্রচার হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে। চলতি শিক্ষাবর্ষের বাকি মাসগুলোয় ক্লাস শুরু করা গেলে সেগুলোর ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, যদি অনলাইনে মূল্যায়ন করতে পারে তবে অনলাইনে হবে। আর যদি অনলাইনে মূল্যায়ন করতে না পারে, তা হলে স্কুলে তো সব শিক্ষক তাদের শিক্ষার্থীকে চেনেন-জানেন। ধারাবাহিক যে মূল্যায়ন আছে, তার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করবেন। আর যদি সম্ভব না হয়, তা হলে অনলাইনসহ প্রতিষ্ঠানগুলো যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এই মূল্যায়নটি করবে। এই মূল্যায়নটি পরীক্ষার মাধ্যমে হবে, নাকি অন্য উপায়ে করা হবে- সেটি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সুবিধামতো ঠিক করে নেবে। তবে মূল্যায়ন একটি হবেই। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ এই মূল্যায়নটি করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। অন্যান্য শ্রেণির বিষয়ে ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির জন্য পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং এনসিটিবি একটা গাইডলাইন দেবে।

করোনার কারণে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কওমি মাদ্রাসাগুলো ২৪ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হলেও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে।

advertisement
Evaly
advertisement