advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মহাখালীতে সৌদিপ্রবাসীদের উপচেপড়া ভিড়
এবার দুশ্চিন্তা করোনা পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৩৭
advertisement

আন্দোলন-বিক্ষোভের পর সৌদি আরব ফেরার বিমান টিকিট পেয়ে একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস ছেড়েছিলেন সে দেশ থেকে ছুটিতে এসে আটকেপড়া বাংলাদেশিরা। কিন্তু এখন আবার অন্যরকম এক দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাদের। কারণ ২৬, ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরের সৌদি এয়ারলাইন্স ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটপ্রাপ্তদের যাত্রা শুরুর আগে দেখাতে হবে করোনামুক্তের সনদ, যা অবশ্যই হতে হবে ৭২ ঘণ্টা আগের। এ হিসাবে কারও হাতে আছে দুই দিন; কারও একদিন। আবার কোনো কোনো যাত্রীর সময় আজ শনিবারই শেষ। ফলে স্বল্প সময় হাতে নিয়েই কাক্সিক্ষত করোনামুক্ত সনদ নিতে ছুটছেন তারা। এর মধ্যেও ভিড় করে আছে আশঙ্কার কালো মেঘ। কারণ, নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট না পেলে বাতিল হয়ে যাবে তাদের ফ্লাইট। আবার সময় শেষে রিপোর্ট পজিটিভ হলেও ফিরতে পারবেন না পুরনো কর্মস্থলে। সব মিলিয়ে সৌদির কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ঘোর এক অনিশ্চয়তাময় সময় পার করছেন এই রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কাউন্টার থেকে ৫০১ থেকে ৮৫০ নম্বর টোকেনধারী ৩৫০ জনের ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা হয়। টিকিট হাতে পাওয়ার পর প্রত্যেকেরই গন্তব্য ছিল করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র।

এদিন সকাল থেকেই নমুনা পরীক্ষা করানোর জন্য রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটের করোনা ভাইরাস নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রে নমুনা দিতে আসতে থাকেন সৌদি প্রবাসীরা। সকাল ১০টা থেকে টিকিট দেওয়া শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ভিড়। কেন্দ্রের কর্মচারীরা জানান, এমনিতে প্রতিদিন সেখানে গড়ে ৭শ থেকে ৮শ বিদেশগামী যাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু গতকাল সেখানে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি প্রবাসীকর্মী হাজির হন। ফলে ভিড় সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

এর মধ্যেই সকালের দিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মহাখালী করোনা পরীক্ষার সেন্টারের ভেতরের ফ্যানগুলো ছিল বন্ধ। ফলে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতির কারণে গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয় অনেকেরই। যদিও গরমের মধ্যে প্রবাসীদের কোনো আক্ষেপ ছিল না। সবাই সেনাবাহিনীর নির্দেশনানুসারে লাইন ধরে প্রথমে পরীক্ষার জন্য কুপন সংগ্রহ করেন। পরে এ সেন্টার থেকে পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট দেখিয়ে সরবরাহকৃত ফরম পূরণ করে নমুনা দেন।

পরীক্ষা করতে আসা বেশ কয়েকজন প্রবাসীকর্মী জানান, টিকিট হাতে পাওয়ার পর তাদের নতুন দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে করোনামুক্তের সার্টিফিকেট নিয়ে। পরীক্ষার পর ‘পজিটিভ’ হন কিনা তা নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ পাবেন কিনা, তা নিয়েও আছে দুশ্চিন্তা। সকালে ফ্লাইটের টিকিট পেয়েই করোনামুক্তের সনদ নিতে হন্তদন্ত হয়ে মহাখালী আসেন সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সৌদি ফেরার টিকিট পেয়ে ভালো লাগছে। তবে দুশ্চিন্তায় আছি। শনিবার ফ্লাইট, হাতে আছে কয়েক ঘণ্টা। কর্তৃপক্ষকে নাকি করোনামুক্তের সনদ দিতেই হবে। শনিবারের পর রিপোর্ট পজিটিভ হলে যেতে পারব না। এই অবস্থায় কী করব ভেবে পাচ্ছি না। তাই করোনা টেস্ট করাতে মহাখালী যাচ্ছি।’

আবুল কালাম নামে আরেক প্রবাসী বলেন, এ মাসে রিয়াদ ও জেদ্দায় বিমানের বিশেষ ফ্লাইট যাচ্ছে। কিন্তু দাম্মাম ও মদিনায় কোনো বিশেষ ফ্লাইট নেই। এ নিয়ে বিমান কিছুই বলছে না। কি করব ভেবে পাচ্ছি না। মো. সিদ্দিক নামে আরেকজন জানান, গত রবিবার তিনি টোকেন নিয়েছেন। টানা তিনদিন সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিস ঘুরে টিকিট পেয়ে দেখেন শনিবার তার ফ্লাইট। তাই করোনামুক্তের সনদ পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনিও।

এদিকে সৌদি প্রবাসীদের জন্য গতকালও ফেরার টিকিট ইস্যু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগের দিনের মতো এদিনও বিমানের মতিঝিল কার্যালয় থেকে টিকিট ইস্যু করা হয়। এর মধ্যে ১৮ ও ২০ মার্চ জেদ্দা এবং ১৮ ও ১৯ মার্চ রিয়াদে ফেরার জন্য রিটার্ন টিকিটধারীদের টিকিটও ইস্যু করা হয়েছে। একই তারিখের রিটার্ন টিকিটধারীদের কাছে আজ শনিবারও টিকিট বিক্রি করা হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর জেদ্দা এবং ৩০ সেপ্টেম্বর রিয়াদে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য এসব টিকিট ইস্যু করা হবে। গতকাল ৩৫০ জনের সৌদি ফেরার টিকিট দেওয়া হলেও আজ শনিবার সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কাউন্টার থেকে ৮৫১ থেকে ১২০০ নম্বর টোকেনধারীদের ফেরার টিকিট দেওয়া হবে। আগামীকাল রবিবার ১২০১ থেকে ১৫০০ নম্বর টোকেনধারীদের দেওয়া হবে টিকিট। যারা টোকেন পাননি, তাদের আসতে হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। এ সময় পর্যন্ত সৌদি আরব যাওয়ার জন্য আর কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না বলে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে।

আজ শনিবার সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। এগুলোতে শনিবার দুপুর ও রাতে যারা সৌদি আরব যাবেন শুক্রবার তাদের নমুনা পরীক্ষায় প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর যাদের ফ্লাইট রয়েছে তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলে ডিএনসিসি মার্কেটের করোনা ভাইরাস নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানান, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স চলতি মাসে ঢাকা থেকে চারটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। পরে ২৮ সেপ্টেম্বরের জন্য আরেকটি ফ্লাইটের আবেদন করে তারা। এরপর নতুন করে ফ্লাইট বাড়ানোর ব্যাপারে এয়ারলাইন্সটি আর কোনো আবেদন করেনি।

advertisement
Evaly
advertisement