advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকে কাজ করতে হবে এক হয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৩২
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার ফরেন সার্ভিস একাডেমির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের ৪৬ বছরপূর্তি উপলক্ষে আলোচনাসভা এবং নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রান্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় চায় বিশ্বে শান্তি বজায় থাকুক। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সব সময়

প্রস্তুত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে নানা ধরনের সংঘাত আছে, সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে জীবন দেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে বিশ্বের মানুষের মুক্তি কামনা করে তিনি বলেন, আবারও অর্থনীতির চাকা সচল হোক, সব মানুষ সুন্দরভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারুক, সেটাই আমরা চাই। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সারাবিশ্বকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সুন্দর জীবন নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি আমাদের খাদ্যের ওপর। কারণ আমি জানি, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বে হয়ত দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। দেশে যেন কোনোমতে সেই দুর্ভিক্ষের ছোঁয়া না লাগে। তাই আমরা যতটুকু পারি খাদ্য উৎপাদন করা, খাদ্য বিতরণ করা, দরিদ্র মানুষকে বিনা পয়সায় খাদ্য দেওয়া এবং খাদ্য নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

অর্থনৈতিক কর্মকা- সীমিত আকারে অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জিডিপির টার্গেট ছিল যে ৮.২ শতাংশের উপরে যাব, সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমরা এবার ৫.২৪ শতাংশের মতো অর্জন করতে পেরেছি। আশা করি আগামীতে আমরা আরও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হব। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন ভার্চুয়ালি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ১৬ বার জাতিসংঘে গিয়ে ভাষণ দিয়েছি। ১৭তম ভাষণ দিতে আমি যেতে পারছি না। এটি সত্যিই খুব দুঃখের। কারণ সেখানে বিশ্বের সব দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটা সুন্দর সুযোগ হয়, মতবিনিময় করার সুযোগ হয়, একে অপরের অভিজ্ঞতা আমরা শেয়ার করতে পারি। সেই সুযোগটা করোনা ভাইরাসের কারণে হলো না।

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা তার ভাষণে এদেশের দুঃখী মানুষের কথা বলেছিলেন, এদেশের সার্বিক উন্নয়নের কথাই বলেছিলেন। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বঞ্চিত মানুষের কথাও তিনি বলেছেন। আমরা সেটা বিশ্বাস করি। তাই আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তৃণমূলের মানুষ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বও অনেক বদলে গেছে। এখন শুধু রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, দরকার হয় অর্থনৈতিক কূটনীতিও। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো, সবার সঙ্গে মিশে কিভাবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করা যায়, উন্নয়ন করা যায়, একে অন্যকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায়, একে অন্যের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তি কিভাবে আনা যায়- সেভাবেই আমাদের ডিপ্লোমেসি এখন চালাতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement