advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডেমরায় খানাখন্দে ভরা সড়ক বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা

মো. মিজানুর রহমান ডেমরা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৪৭
advertisement

রাজধানীর প্রবেশদ্বার ডেমরায় ডেমরা-রামপুরা সড়কে খানাখন্দে জনভোগান্তি বেড়েই চলেছে। সড়ক বিভাগের নজরদারির অভাবে সড়কটিতে অল্প বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরা কর্দমাক্ত ওই সড়কে ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল, প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় দিনের বেলায় ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে বাস, মিনিবাস ও সিএনজিচালিত লেগুনা থেকে সিটি করপোরেশনের নামে টোল আদায় চলছে। এতে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। পাশাপাশি গভীর রাতে ডেমরা-রামপুরা সড়কের রাসেল পেট্রল পাম্প এলাকায় সড়ক গতিরোধকের সামনে একইভাবে সব ধরনের যানবাহন থেকেও টোল আদায় করা হচ্ছে সিটি করপোরেশনের নামে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৪ ও ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ এবং ৬৬ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা হচ্ছে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকা। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, অন্যান্য পেশার মানুষসহ রূপগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে ডেমরা-রামপুরা সড়কে। এ ছাড়া রাতে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে সড়কটি দিয়ে।

যানজটে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নাহার সুলতানা নামে এক নারী বলেন, ডেমরা-রামপুরা সড়কে শুরুতেই খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা ছিল, এখনো আছে। তা ছাড়া সড়কের দুপাশেই ঘিঞ্জি অবস্থা স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করে।

এ বিষয়ে ডেমরা ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে গেছে। সে কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। তা ছাড়া ওই সড়কে খানাখন্দের পরিমাণ বেশি। প্রায়ই আমরা ইট-বালি দিয়ে খানাখন্দ ভরে দিলেও বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তবে সড়কে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে মানুষ চলাচল করতে পারছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কোনো নির্দিষ্ট টার্মিনাল না থাকায় ডেমরা-রামপুরা সড়কের দুপাশে যেখানে-সেখানে বাস ও সিএনজির স্টপেজ করা হয়েছে, ফলে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। রাত ১১টার পর নিরিবিলি অবস্থায় ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টারের রাসেল পেট্রল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় শুরু হয় সিটি করপোরেশনের নামে টোল আদায়, যা নিয়মবহির্ভূত। একাধিক অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাতে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপসহ পণ্য ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন পরিবহন থেকে ৩০ থেকে ৬০ টাকা করে এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা হারে টোল আদায় করার কথা থাকলেও যানবাহনপ্রতি চাঁদা আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ২০০ টাকা।

তবে এ এলাকা থেকে সিটি করপোরেশনের নামে টোল আদায়ের কোনো নিয়ম নেই বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। কথিত টোল আদায়ের কারণেই সড়কে প্রতিরাতেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এদিকে ডেমরায় ডেমরা-রামপুরা সড়কে কোনোভাবেই বিভিন্ন যানবাহন থেকে বৈধভাবে টোল আদায়ের কোনো নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে বাহাদুর শাহ্ পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী যানবাহনের চালক বলেন, সিটি করপোরেশনের নামে তারা অনেক দিন ধরেই আমাদের কাছে সিøপের মাধ্যমে ৩০ টাকা করে টোল আদায় করছে। অন্যান্য বড় যানবাহন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের যাত্রীবাহী যানবাহন থেকেও ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত টোল নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীতে টোল আদায়ের সাবেক ইজারাদার মো. শাহাবুদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, বর্তমানে গুলিস্তান, জয়কালি মন্দির, (সায়েদাবাদ সিটি) স্টপওভার টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা, এমনকি ডেমরায় টোল আদায়ে বর্তমানে সরকারি বা সিটি করপোরেশনের কোনো ইজারাভিত্তিক অনুমোদন নেই। তবে নগর ভবনের কতিপয় কর্মকর্তারা বিভাগীয় ব্যবস্থায় মতিন মৃধা নামে কোনো এক ব্যক্তিকে টোল আদায়ের অনুমোদন দিয়েছে বলে জেনেছি, তাও অবৈধ। ওই অনুমোদনের মেয়াদ গত ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। কিন্তু ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে সড়কে টোল আদায় নিয়মবহির্ভূত।

এ বিষয়ে ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহ ইফতেখার আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, সিটি করপোরেশনের নামে দিনে-রাতে টোল আদায়ের বৈধতার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অবৈধভাবে কোনোভাবেই সড়কে টোল আদায় করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে অবৈধ টোল আদায়কারী বা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement