advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডোপ টেস্টে ধরা ২৬ পুলিশ সদস্য

চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৪২
advertisement

মাদক সেবন ও মাদক কারবারে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে নজরদারি শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তর। ‘মাদকসেবী’ সন্দেহ হলেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আনা হবে ডোপ টেস্টের আওতায়। পজিটিভ হলেই নেওয়া হবে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ২৬ সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদক সেবন এবং কারবারে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন বার্তা দিতেই মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ডিএমপির ২৬ সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছে জানিয়ে গতকাল এক অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিষয়ে আমরা সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যকে ডোপ টেস্ট করে ২৬ জনের পজিটিভ পেয়েছি। এই ২৬ জনকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস এভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারলে বাকিদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজ যাবে যে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। আমাদের এই উদ্যোগের ফলে অনেকে ভালো হয়েছে। অনেকে এ রাস্তা থেকে ফিরে এসেছে। পুলিশ সদস্য যারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা মাদক কারবারিকে সহযোগিতা করছে, সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো রকম শিথিলতা দেখানো হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একজন সাধারণ মাদক কারবারির বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ঠিক সেভাবে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ দিকে ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর ডিএমপির অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

এ দিকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত জুম মিটিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত পুলিশ গড়তে চাই। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ৬৬০ থানার অফিসার ইনচার্জকে মাদক ও দুর্নীতি বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকাসক্ত সন্দেহ হলে তার ডোপ টেস্ট করাতে হবে। পজিটিভ হলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে তিনভাবে জড়িত। কেউ কেউ মাদক গ্রহণ করছেন, কেউ কেউ সোর্সের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের একটা অংশ আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন, কেউ ঘুষ নিয়ে মাদক বিক্রিতে সহযোগিতা করছেন। কেউ কেউ সরাসরি নিজেরাই মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়েছেন- এমন অভিযোগে একাধিক পুলিশ সদস্যও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মানুষকে হয়রানি করার জন্য পকেটে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে মামলা দিচ্ছে বা মামলার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ আছে।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক আমাদের সময়কে বলেন, মাদকের জন্য তিনটি বিষয় জড়িত। এগুলো হলোÑ মাদক উৎপাদনের সঙ্গে যারা জড়িত, সরবরাহের সঙ্গে জড়িত এবং মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। এখানে মাদক সরবরাহকারীদের যারা সহায়তা করছে তাদের মধ্যে পুলিশ অন্যতম। আমার জানা মতে কয়েকটি ঘটনা রয়েছে, যেখানে মাদকসহ ধরা পড়ার পর মাদক কারবারিকে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন, আইজিপিও একই কথা বলেছেন, সেখানে মাঠ পর্যায়ে অনেক পুলিশ সদস্য এবং অনেক ওসি মাদক নির্মূল করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেগুলো নিচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, ডোপ টেস্ট এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু বাংলাদেশে পুলিশ সদস্য হলো দুই লাখেরও বেশি। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সুতরাং যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সেটি খুব বড় পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি না। এই পদক্ষেপ আরও বড় আকারে নেওয়া উচিত।

advertisement
Evaly
advertisement