advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার রিপোর্ট সংগ্রহে ভোগান্তিতে বিদেশগামীরা

দুলাল হোসেন
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৪২
advertisement

বিদেশ গমনকারীদের জন্য করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট বাধ্যতামূলক। বিদেশযাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে এ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হয়। অথচ অনেকে ২৪ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সের টিকিটই পাচ্ছেন না। এ কারণে সময়মতো করোনা পরীক্ষা নমুনা দিতে পারছেন না। এতে করে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিদেশগামীরা।

জানা গেছে, বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট গ্রহণের জন্য ঢাকায় ৪টিসহ সারা দেশে ১৯টি কেন্দ্র নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্রে বিদেশযাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে করোনা নমুনা প্রদান এবং ২৪ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা রিপোর্ট গ্রহণের নিয়ম। কিন্তু অনেক যাত্রী ২৪ আগে পরীক্ষার নমুনাই দিতে পারছেন না। অনেকে নমুনা দিচ্ছেন ফ্লাইট ছাড়ার ৮-১০ ঘণ্টা আগে। সময়মতো করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট না পাওয়ায় কারও কারও যাত্রা বাতিল হচ্ছে। বিদেশগামী করোনা পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নমুনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাখালীর মার্কেটে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার যাত্রীর করোনা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এসব যাত্রী সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নমুনা দিয়ে থাকেন।

নমুনা দেওয়ার পরদিন দুপুরে এসএমএসের মাধ্যমে রিপোর্ট জানিয়ে দেওয়া হয় এবং অনলাইনে সেন্ড করা হয়। যেসব যাত্রী রিপোর্ট প্রিন্ট করতে সমস্যা মনে করেন তাদের দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়।

গতকাল শনিবার মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে অবস্থিত করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের নেগেটিভ সনদ সংগ্রহ নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিদেশগামী বাংলাদেশি যাত্রীরা। তাদের বিদেশযাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট গ্রহণের নিয়ম থাকলেও অনেকে ২৪ ঘণ্টা আগে পরীক্ষার নমুনাই দিতে পারছেন না। সময়মতো করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট না পাওয়ায় যাত্রাও বাতিল করতে হচ্ছে কাউকে কাউকে। আর যারা করোনা নমুনা দিচ্ছেন তাদের অনেকেই সময় স্বল্পতার কারণে রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত চরম টেনশনে থাকছেন।

মৌলভীবাজারের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে সৌদি যাত্রার জন্য সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনেন। তার ফ্লাইট শনিবার সন্ধ্যা ৬টায়। টিকিট পাওয়ার পরই তিনি মৌলভবাজার চলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন সৌদি গমনের আগে তার করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট সঙ্গে নিতে হবে। এর পরই গতকাল শনিবার দুপুর ২টায় ছুটে আসেন মহাখালীর ডিএনসিসি করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে। এখানে আসার পর তাকে জানানো হয় এত অল্প সময়ে তার করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়।

জামাল উদ্দিনের ছেলে সুমন বলেন, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় আমার বাবার ফ্লাইট। এখন দুপুর ২টা বাজে। যাত্রার আগে করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট নিতে হবে। এখান থেকে বলা হয়েছে এ সময়ের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। এখন বাবার সৌদি যাত্রা বাতিল হয়ে যেতে পারে। আমরা খুবই টেনশনে আছি।

মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেট পরীক্ষা কেন্দ্রে কথা হয় নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মো. বিল্লাহ হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশে আসেন। করোনার জন্য আর যেতে পারেননি। শুক্রবার রাতে সাউদিয়া এয়ারের টিকিট হাতে পেয়েছি। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ফ্লাইট। টিকিট পাওয়ার পর ওই সময়ে করোনা নমুনা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে টেনশনে রাতে ঘুম আসেনি। শনিবার সকালে এখানে এসে জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছি। উনারা বলছেন ২টার দিকে রিপোর্ট দেবেন। এখন প্রায় ২টা বাজে। রিপোর্ট পাইনি। খুবই টেনশনে আছি, হাতে এত অল্প সময়, রিপোর্ট না পেলে যাত্রা বাতিল হয়ে যাবে। আমরা গরিব মানুষ, যাত্রা বাতিল হলে অনেক সমস্যায় পড়ে যাব। এর পর সোয়া ২টার দিকে বিল্লাল হোসেন করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট হাতে পেয়ে খুবই খুশি হন। এর পরই তিনি দ্রুত রিপোর্ট নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা করেন।

ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. মইনুল আহসান বলেন, এখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যারা নমুনা দেন তাদের রিপোর্ট পরদিন দুপুর ২টার আগে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। যারা রিপোর্টের প্রিন্ট নিতে চান তাদের প্রিন্টকপি দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দেয়। কিন্তু এখন অনেক বিদেশগামী আছেন, যারা ফ্লাইটের টিকিট পাচ্ছেন যাত্রার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে। বিশেষ করে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ৯০ শতাংশ যাত্রীর ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে। এত অল্প সময়ে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে খুব হিমশিম খাচ্ছি। আর যাত্রীরা রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুবই টেনশনে থাকেন। আমরা বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য ইমার্জেন্সি সার্ভিস চালু করেছি। তার পরও করোনা পরীক্ষা করা নিয়ে সমস্যা কাটছে না।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ৩০ জন যাত্রী আসছেন যাদের রিপোর্ট রবিবার সকাল ৭টায়। এত কম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করা কষ্টসাধ্য। অল্প সময়ে করোনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট না পাওয়ায় অনেকের যাত্রা বাতিল হয়ে যাবে। আমরা প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার বিদেশগামীর পরীক্ষা করছি। আগামী ১ তারিখ থেকে এ সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সময়মতো নমুনা দিলে যত যাত্রী আসুক সবার পরীক্ষা করতে কোনো সমস্যা হবে না। জানা গেছে, বিদেশ গমনকারীদের জন্য করোনা পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে গত ২৩ জুলাই থেকে। গত ১৬ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিদেশ যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে এ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। নমুনা দেওয়ার সময় পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকিট ও পাসপোর্ট উপস্থাপন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে; নমুনা প্রদানের পর থেকে যাত্রার সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবশ্যিকভাবে আইসোলেশনে থাকবেন; যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হবে না এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বিদেশযাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ প্রাপ্তির জন্য ল্যাবে গিয়ে নমুনা প্রদানের ক্ষেত্রে ৩৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে ৪৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। যদিও পরে পরীক্ষার ফি কমিয়ে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই সময়ে সারা দেশে ১৬টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ১৯টি।

advertisement
Evaly
advertisement