advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাবুডুবু ‘খাচ্ছে’ নগরবাসী

রংপুর সংবাদদাতা
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:১৫
advertisement

স্মরণকালে এত পানি দেখেনি রংপুর নগরের মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে একশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে জাহাজকোম্পানি, শাপলা চত্বর, মুলাটোল, কামারপাড়া সড়কসহ নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ পাড়া-মহল্লা ও বাসাবাড়ি। এতে হাবুডুবু খাচ্ছেন নগরবাসী। এদিকে প্রবল বর্ষণে দেয়াল ধসে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত একশ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানান অফিসটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান। তিনি বলেন, একদিকে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরেকদিকে নগরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ি-ঘরে পানি ওঠায় স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই।

সেনপাড়ার বাসিন্দা অরুপ সরকার জানান, হঠাৎ করে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ায় তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি সকালে উঠে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেন পানি ঢুকে অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। বাড়ির আসবাব থেকে শুরু করে মূল্যবান কাগজপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার পথে।

কলেজছাত্রী অসীমা রায় লিপি জানান, যারা একতলা বাড়িতে থাকেন তাদের বিছানাপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আশপাশের স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই।

নগরীর সমাজকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন জানান, এতবড় একটি দুর্যোগে আগে থেকে সিটি করপোরেশন অথবা আবহাওয়া অফিস থেকে কোনো সতর্ক বার্তা বা পূর্বাভাস দেয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

আশ্রয় নেওয়া মুলাটোল থানা মোড় এলাকার গৃহিণী আছিয়া বেগম জানান, তার বাসার বিছানার ওপরে পানি উঠে গেছে। এতে সব জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরজাহান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ছোট ব্যবসায়ী। ভাড়া বাড়িতে থাকি। হঠাৎ এ পানিতে মালামালসহ বাড়ির সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে।

মুলাটোল-আমতলির একটি ছাত্রাবাসে থাকেন আইনের ছাত্র রোকনুজ্জামান। ছাত্রাবাসের উঠোন থেকে ঘর পর্যন্ত, আবার কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমড় পানি। ট্রাঙ্ক, ফাইল কেবিনেটে পানি ঢুকে তার জীবনের সব শিক্ষা সনদ নষ্ট হয়েছে। রোকন বলেন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে নগরের হাজার হাজার মানুষকে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতো না। অন্যদিকে প্রাচীন এ শহরে দেড়শ বছরের পুরনো শ্যামাসুন্দরী খালটি দখল দূষণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খাল সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা বাজেট হলেও কাজের কাজ না হওয়ায় নগরীর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।

একই ছাত্রাবাসের নিরঞ্জন রায় বলেন, শোবার ঘরের পাশাপাশি রান্নাঘরও তলিয়ে গেছে। ফলে রান্না করতে না পারায় সকাল থেকে তাদের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ।

প্রবল বর্ষণে শুক্রবার রাতে নগরীর উত্তর বাবুখাঁ এলাকায় প্রতিবেশীর বহুতল ভবনের সীমানাপ্রাচীর ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান পরিবহন শ্রমিক আবদুল আজিজ এবং শনিবার পাকপাড়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে আরেকজনের মৃত্যু হয়।

advertisement
Evaly
advertisement