advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অস্ত্র মামলায় সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদ-

আদালত প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদ ওরফে মো. সাহেদ করিমের একটি ধারায় যাবজ্জীবন এবং অপর একটি ধারায় ৭ বছরের কারাদ-ের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদ-ের রায় সাহেদরূপী ভদ্রবেশী অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা বহন করবে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন আদালত।

রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে সোমবার সকাল ১০টায় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ২টায় তাকে রায় ঘোষণাকারী আদালতের কাঠগড়ায় উঠানো হয়। রায় ঘোষণার শুরুতে আদালত বলেন, মামলার ১৪ সাক্ষীর মধ্যে

১১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী ছিলেন গাফফারুল আলম। আসামি সাহেদ উত্তরা পশ্চিম থানার ৫ (৭) ২০ নম্বর মামলায় রিমান্ডে থাকাকালীন এডিসি বদরুজ্জামানের নেতৃত্বে আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরিচালনা করা অভিযানে আসামির দেখানো মতো গাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গাড়ি থেকে যে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করেছে। তবে আসামি সাহেদ গাড়ি তার নয় বলে আদালতে অস্বীকার করেন। যা দিয়ে সে অস্ত্রের কন্ট্রোল তার ছিল না বলে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে তখন ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে এ আসামি গাড়িটি ক্রয় করেছে মর্মে কর্তৃপক্ষ সাক্ষ্য দিলে আসামির চতুরতা ধরা পড়ে। সেখানেই প্রমাণ হয়ে যায় আসামি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। চতুরতার সঙ্গে মিথ্যার অশ্রায় নেওয়া এ ধরনের আসামির আদালতের অনুকম্পা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ শাস্তিই তার প্রাপ্য। এ রায় সাহেদরূপী ভদ্রবেশী অপরাধীদের জন্য একটি বার্তা হয়ে থাকবে। তাই অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে এ আসামির অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- এবং একই আইনের ১৯ (এফ) ধারায় গুলি রাখার জন্য সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদ- প্রদান করা হলো, যা একই সঙ্গে চলবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউর আব্দুল্লাহ আবু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আর সাহেদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে যাব। আর সাহেদ নিজেই প্রিজনভ্যানে উঠানোর সময় ন্যায়বিচার পায়নি বলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে জানান।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করেন।

উল্লেখ্য, করোনা টেস্ট না করে ভুয়া রিপোর্ট এবং ভুয়া নেগেটিভ ও পজিটিভ সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদকে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১০টি মামলা হয়েছে। এ মামলায় একই আদালত ২৭ আগস্ট চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন। তারও আগে গত ৩০ জুলাই এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

advertisement
Evaly
advertisement