advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিস্তায় অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:২৩
advertisement

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। গতকাল মঙ্গলবার দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও এস জয়শঙ্কর। তিস্তার পানি বণ্টনে চুক্তি করতে ভারত যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা আবারও ঢাকাকে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্তে হত্যা চিরতরে বন্ধেও একমত হয়েছেন তারা। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এ সম্পর্কে কথা বলেন। অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুপক্ষ আলোচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দুপক্ষ সম্মত হয়েছি। আমরা জোর দিয়েছি এ বিষয়ে। বাকি আরও ছয়টি নদীর মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক ২০১০ সালে হয়েছিল। এটি দ্রুত করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে বৈঠক হয়নি এবং আমার মনে হয় যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল না। আমরা সম্মত হয়েছি, এটি হবে। কিন্তু কবে হবে সেটি জানি না।

তিনি বলেন, এই যে সামান্য পেঁয়াজ। এটি আমাদের বাজারকে অস্থিতিশীল

করে তোলে। পেঁয়াজের আচমকা রপ্তানি বন্ধের কারণে আমাদের সম্পর্কের যে সোনালি অধ্যায় চলছে তা নষ্ট করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারত থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনি। যেমন পেঁয়াজ এবং সেটি হঠাৎ করে রপ্তানি বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ে।

সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশ-ভারত উভয়ের জন্যই লজ্জার মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সুসম্পর্কের যে সোনালি অধ্যায় চলছে এ তার প্রতি কুঠারাঘাত। আমরা দুপক্ষ একমত হয়েছি, কেউ যাতে (সীমান্তে) মারা না যায়। যেসব অঞ্চলে মারা যায় সেখানে যৌথভাবে মনিটরিং করব। এটি আমাদের জন্য লজ্জার, ভারতের জন্যও লজ্জার। আমাদের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক, সেটি একজন মারা গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই যেমন পেঁয়াজ একটি ছোট জিনিস। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন তা সম্পর্কে আঘাত হানে। সীমান্ত হত্যা বিষয়ে দুপক্ষ একমত হয়েছে এটিকে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার। আমাদের দুই দেশের দায়িত্ব আছে এবং সেটি আমরা করব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হবে, সেটি এখনো ঠিক করিনি। আমরা সম্মত হয়েছি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এখন আমরা প্রস্তুতি নেব। আমরা চাইব বৈঠকটি যেন তাৎপর্যপূর্ণ হয়।

লাইন অব ক্রেডিট বৈঠকে একটি বড় ইস্যু ছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি খুব ধীরগতিতে হচ্ছে। এ জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতের হাইকমিশনারের সমন্বয়ে কমিটি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মতো তারাও উদগ্রীব। অনেক ক্ষেত্রে এটি (ভারতীয় ঋণ) ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারণ কিছু সমস্যা আছে। যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করার জন্য কমিটি হয়েছে। ভারতের দিকে আইনকানুন নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেমন বলা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সির অনুমতি লাগে। কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমদানির জটিলতা রয়েছে। যে জিনিস বাংলাদেশে সহজলভ্য, সেটি আমরা ভারত থেকে কেন আনব। এ বিষয়ে আলোচনা হবে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় একে অপরের সহযোগিতার বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যখনই টিকা বের হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করা এবং যে আগে তৈরি করবে তার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করব। শুধু চীন ও ভারত নয়, অন্য দেশ যেমন রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের টিকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে আমরা ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছি।

সৌদি প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজার হাজার লোক যাচ্ছে, কিছু কিছু সমস্যা হচ্ছে। অনেকের নিয়োগকর্তা তাদের ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছে না, তার মানে কফিল তাদের চাচ্ছে না। এ বিষয়ে কী করা যায় সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

advertisement
Evaly
advertisement