advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একাদশ সংসদে প্রতি আইন পাস হয়েছে ৩২ মিনিটে

টিআইবির ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৯
advertisement

সংসদীয় কার্যক্রমে আইন প্রণয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদের গত পাঁচটি অধিবেশনে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ সময়। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়নের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, অনাগ্রহ ও দক্ষতার ঘাটতিও দেখা গেছে। গতকাল বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ : একাদশ জাতীয় সংসদ (প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ সংসদে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে বিল উত্থাপন

এবং এর ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা ও মন্ত্রীর বক্তব্যসহ একটি বিল পাস করতে গড়ে প্রায় ৩২ মিনিট সময় ব্যয় হয়েছে। যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১৯ সালে ১৭তম লোকসভায় প্রতিটি বিল পাসে গড়ে প্রায় ১৮৬ মিনিট ব্যয় হয়। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ সংসদীয় কমিটিতে বিলের ওপর আলোচনায় ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ৪ শতাংশ সংসদ সদস্য (৩৫০ জনের মধ্যে ১৪ জন) বিলের ওপর নোটিস দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন। বাকি সদস্যদের ভূমিকা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংসদের মৌলিক যে ভূমিকা অর্থাৎ আইন প্রণয়নে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মোটাদাগে আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ কম। অনেক ক্ষেত্রে কম দক্ষতা ও সার্মথ্যও। সেটিরই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেছে এ রকম দৃষ্টান্ত বিরল। সংসদীয় গণতন্ত্র, সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শুদ্ধাচার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোর যে অপরিহার্য ভূমিকা, তা কার্যকর হওয়ার কোনো দৃষ্টান্ত নেই।’

টিআইবি আরও জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে বিশেষত আইন ও বাজেট প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে নিয়ম রক্ষার প্রধান বিরোধী দল হওয়ায় সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তাদের জোরালো ভূমিকার ঘাটতিও লক্ষ করা গেছে।

পার্লামেন্ট ওয়াচের মূল পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ ও তার শরিক দল ৮৯ শতাংশ, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা ৪ শতাংশ আসনে প্রতিনিধিত্ব করছে। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে পুরুষ ৯২ শতাংশ ও নারী ৮ শতাংশ; যা সংরক্ষিত আসনসহ যথাক্রমে ৭৯ শতাংশ ও ২১ শতাংশ। এই এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৬১ শতাংশ, আইনজীবী ১৩ শতাংশ, রাজনীতিক ৫ শতাংশ ও অন্যান্য ২১ শতাংশ। এই এমপিদের একাংশ তাদের হলফনামায় সঠিক তথ্য (আয়ের উৎস, সম্পদের পরিমাণ, নির্বাচনী ব্যয় ও ব্যয়ের উৎস ইত্যাদি) প্রদান করেননি এবং ২১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল।

এমপিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বা তদূর্ধ্ব প্রায় ৭৭ শতাংশ। এইচএসসি সমমানের প্রায় ১২ শতাংশ, এসএসসি বা তার কম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ১১ শতাংশ এমপি রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ সংসদের পাঁচটি অধিবেশনের ৬১ কার্যদিবসে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় হয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্পর্কিত কার্যক্রমে (৩১ শতাংশ)। যেখানে আইন প্রণয়নে (বাজেট ছাড়া) সময় ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। অধিবেশন পরিচালনার প্রতি মিনিটের প্রাক্কলিত অর্থমূল্য থেকে বাস্তব অর্থমূল্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ জাতীয় সংসদের অনুন্নয়ন ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল ছাড়াও সংসদ পরিচালনায় আরও কিছু সেবা খাত রয়েছে। যার ব্যয় এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং সর্বশেষ অর্থবছরের বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করতে না পারায় ওই বছরের হালনাগাদ তথ্যও এখানে সন্নিবেশ করা যায়নি।

অধিবেশনে এমপিদের যথাযথ আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শব্দের ব্যবহার অব্যাহত ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমপিদের অসংসদীয় ভাষা (কটূক্তি) ব্যবহার বন্ধে স্পিকার নীরব ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘স্পিকারের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই কেবল আনুষ্ঠানিক মাত্রায় রয়েছে। এমনকি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি স্পিকারের অবস্থান থেকে।’

advertisement
Evaly
advertisement