advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মরদেহ ছিনিয়ে নিয়ে পোড়ায় পুলিশ, এখন শরীরে নেই ‘ধর্ষণের আলামত’

অনলাইন ডেস্ক
১ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৩৩ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২১:৩৬
গণধর্ষণের শিকার তরুণীর দেহ পোড়াচ্ছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ
advertisement

ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরসে গণধর্ষণের শিকার তরুণীর মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে কোথাও ‘ধর্ষণ’ শব্দের উল্লেখ নেই। জীবিত অবস্থায় নির্যাতিতার বারবার শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ কারণে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশের। শেষপর্যন্ত এ কারণেই মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়।

দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই তরুণীর মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রিপোর্টে ওই তরুণীকে বারবার শ্বাসরোধ করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তরুণীর গলায় শ্বাসরোধ করার  চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, তার জেরে মৃত্যু হয়নি ওই তরুণীর। বলা হয়েছে, তরুণীর সি৬ কশেরুকা (ঘাড়ের অংশে থাকা কশেরুকা) ভেঙে গিয়েছিল। ওই জায়গা থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত ঘটেছিল বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মেরুদণ্ডে আঘাত, সেপসিস এবং হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, এই তিন কারণেই মৃত্যু হয় নির্যাতিতার।

আরও বলা হয়েছে, ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে, কীভাবে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর ভিসেরা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ নমুনা তদন্তকারী অফিসারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকায় জানিয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে হাথরসে এলাকার চার যুবক। শারীরিক অত্যাচারও চালানো হয় তার ওপর। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে তারা। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গেলে দেখা যায়, তরুণীর মুখের একাধিক জায়গা এবং জিভ কামড়ের গভীর ক্ষত। ভুক্তভোগীর দুই পা এবং একটি হাত অসাড় ছিল। শিরদাঁড়া এবং ঘাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তরুণীর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৃত্যুর পর তরুণীর মরদেহ তার পরিবারের হাতে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে মৃতের পরিবারের। মৃতের বাবার অভিযোগ, তাদের কিছু না জানিয়েই পুলিশ তার মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। হাসপাতালের সামনে তারা অবরোধ করলে পরে সেখান থেকে তাদের সঙ্গে নিয়ে হাথরসের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ।

মরদেহ হাথরসে পৌঁছলে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসীরা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের দাবি ছিল সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত মেয়েকে দাহ করবেন না তারা। শুরুর দিকে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক থাকলেও মধ্যরাতে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরিবারের লোকজন-গ্রামবাসীদের উপেক্ষা করেই পুলিশ মৃতের দেহ ছিনিয়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এ সময় ওই তরুণীর পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসীদের তালাবন্ধ করে রাখে পুলিশ। রাত তিনটার দিকে মৃতের দেহ পোড়ায় পুলিশ।

advertisement
Evaly
advertisement