advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পূর্ব-পশ্চিম সংযোগে আদর্শ হতে পারে বাংলাদেশ

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯
advertisement

ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগানো গেলে প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশ একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের যে সংযোগ, এর জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে আদর্শ জায়গা হতে পারে, যদি আমরা সেভাবে উন্নত করতে পারি। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে পানি ভবন, পর্যটন করপোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় পর্যটন ভবন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, বিমানবন্দরের ভেতরে

বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইউরোপে সুইজারল্যান্ডের যে অবস্থান, ইউরোপের একদিক থেকে আরেকদিকে যেতে হলে সুইজারল্যান্ডের ভেতর দিয়েই যেতে হয়। বাংলাদেশের যে অবস্থান, আমরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটের ভেতরে আছি। সেখানে আমাদের সামনে অনেক সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনা যদি কাজে লাগাতে পারি, তা হলে একদিকে পর্যটনশিল্প, অন্যদিকে আমাদের এয়ারলাইন্স অনেক টাকা উপার্জন করে দিতে পারে।

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে যারা এসেছেন- একখানা বিমান কিনে কয় টাকা পকেটে ভরবেন, কত কমিশন খাবেন সেটাই ছিল তাদের মাথায়।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের আগেও আপনারা যারা বিমানে চড়েছেন, একবার চিন্তা করেন, সেখানে কী দুরবস্থাটা ছিল। বিমানে চড়লে কোনো রকমের এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থা ছিল না। আমি তো বেশিরভাগই নিজের দেশের বিমানে চলাচল করতাম। কিছুদূর যাওয়ার পরে গায়ে পানি পড়ত ওপর থেকে, সেখানে তোয়ালে, টিস্যু দিয়ে পানি আটকানো হতো। এমন একটা অবস্থা ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এক সময় বলতাম, আমাদের পাইলটদের আমি ধন্যবাদ জানাই যে, তারা এই বিমানের চালক ছিল। এই পুরনো ঝরঝরে- এ কারণে তাদের সাধুবাদ দিতে হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিমানের সেবার মানের উন্নয়ন, নতুন বিমান কেনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি এবং বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সরকার সারাদেশে আকাশপথসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে জনিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে, দেশের অর্থনীতি তত গতিশীলতা পাবে, উন্নত হবে। মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। তিনি বলেন, বিমানের জেট ফুয়েল যাতে লাইপলাইনের মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়, সে ব্যবস্থা সরকার করে দিচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিমান যেন যেতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, যেখানে আমাদের বিমান যেতে পারবে। আমরা যখন বোয়িং বিমানগুলো কিনি তখন থেকে প্রচেষ্টা ছিল, আমরা যেন আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি বা একটা যোগাযোগ করতে পারি। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি বসবাস করেন।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এর উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে যত খাল, বিল, হাওর, পুকুর, নদী যা আছে সবগুলোর যাতে নাব্য থাকে, সেগুলো খনন করা, সেখানে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, এসব করতে হবে। তাতে দুটি কাজ হবে। একটা হচ্ছে আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে, মৎস্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। তাতে মানুষের চহিদাও পূরণ করতে পারব।

জলাধার বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে পানির জন্য এক সময় হাহাকার ছিল, সেই হাহাকারটা যেন বন্ধ হয়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে হবে। মাটির নিচের পানির পরিবর্তে ওপরের পানির ব্যবহার নিশ্চিতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে হবে। সেচের পানি বা ব্যবহারের পানি যেন ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে আসে সেদিকে যেন আমরা বিশেষ দৃষ্টি দেই। এ সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ছাড়া কোনো কাজেই উৎকর্ষ সম্ভব নয়।

দেশের প্রতিটি নদী ড্রেজিং করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানোর পাশাপাশি নৌপথগুলো ড্রেজিং করে চালু করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পানি ভবন মিলনায়তন প্রান্ত থেকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ার, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রান্ত থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মহিবুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

#

advertisement
Evaly
advertisement