advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুুন্দরগঞ্জে ঘাঘট নদীর বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

শাহ মো. রেদওয়ান, সুন্দরগঞ্জ ও এনায়েত করিম বিজয়, বাসাইল
২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯
advertisement

গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দের গারোকাটা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ঘাঘট নদীর পানি ঢুকে ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই হাজার পরিবার। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় দুই হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। এতে করে বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ ইউনিয়নসহ ঘাঘট নদীর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন দুর্ভোগে পড়েছেন।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি কালভার্ট বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে তিনটি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের বাসাইল দক্ষিণপাড়ায় অবস্থিত সাড়ে ৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে কালভার্টটি হঠাৎ করে পানির স্রোতে ভেসে যায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মন্ডল জানান, ঘাঘট নদীর বন্যায় এক হাজার ৫’শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। নতুন করে পানিবন্দি পরিবারের তথ্য আসছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, এক হাজার ৫’শ হেক্টর আমন ক্ষেত ও ৯০ হেক্টর সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি

নতুন করে আরও আমন ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুৎফুল হাসান ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, এ পর্যন্ত পানিবন্দি মানুষের মাঝে ৫ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানির পাত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও অনুদান বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধটির ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য বালুর বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাঁধ এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

এ দিকে বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি পুনরায় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির প্রভাবে বিভিন্ন এলাকার নিচু সড়কগুলো ডুবে যাচ্ছে। উপজেলার গ্যারামাড়া বিলে পানি বৃদ্ধির কারণে বাসাইল-নাটিয়াপাড়া সড়কের ওই কালভার্টের নিচ দিয়ে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে কালভার্টটি পানির স্রোতে হঠাৎ করেই ভেসে যায়।

স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে বাসাইল উপজেলার আদাজান, কাঞ্চনপুর, বিলপাড়া, বালিনা, ভোরপাড়া, হাবলা, মির্জাপুর উপজেলার কুর্ণী, ফতেহপুর, পাটখাগুড়ী, মহেড়া, ভাতকুড়া, আদাবাড়ি ও দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়াসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতো। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এসব এলাকার মানুষের বাসাইল সদরের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেলো।

স্থানীয় বাসিন্দা মুলহাম মিয়া বলেন, ‘কালভার্টটির পাশের জমিটি আমার। পানির প্রবল স্রোতের কারণে কালভার্টটি ভেসে যায়। এ কারণে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতরত মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এখানে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী রোজদিদ আহমেদ বলেন, ১৯৯৫ সালে এলজিইডি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার মিটার কালভার্টটি নির্মাণ করেছিল। আগেই এই কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে প্রবল স্রোতে কালভার্টটি ভেঙে গেছে। সেখানে ২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement