advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবরারের মৃত্যু
প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি ১৩ অক্টোবর

আদালত প্রতিবেদক
২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯
advertisement

বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানি আগামী ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দিয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, কবির বকুল, শুভাশিস প্রমাণিক,

মহিদুল আলম পাভেল, শাহপরাণ তুষার, কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে ডেকোরেশন ও জেনারেটর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জসিমউদ্দিন অপু, মোশারফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার। আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয়জন জামিনে ও অপর চারজন পলাতক রয়েছেন।

এর আগে গত বছর ৬ নভেম্বর নিহত আবরারের বাবা মো. মজিবুর রহমান ঢাকার সিএমএম আদালতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে এ মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের পর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ১৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক আবদুল আলীম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আবরার গত ১ নভেম্বর স্কুল ক্যাম্পাসে প্রথম আলোর মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে যায়। অনুষ্ঠান চলাকালে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আবরার বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ঘটনার সময় অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা ছিল অরক্ষিত। এ ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগের যে নিরাপত্তামূলক ও সাবধানতা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। আবরার বিদ্যুৎস্পর্শ হওয়ার পর ঘটনাস্থলের খুব কাছেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থাকলেও কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ তাকে দূরে মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গত ১ নভেম্বর ইস্যুকৃত মৃত্যুর সনদে দেখা যায়, আবরার ওই তারিখে ৪টা ১৫ মিনিটে ভর্তি হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ছেলেটির মৃত্যুর সংবাদ জানার পরও তা গোপন রেখে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায় কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবরারের মৃত্যুর ঘটনা সহপাঠীদের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়, যা ছিল পরিকল্পিত অবহেলাজনিত। পরে আবরারের বাবা ও তার পরিবার হাসপাতালে এলে এ মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতেও চাপ দেওয়া হয়। এর পর বাদী দ্রুত লাশ চাইলে মুচলেকা রেখে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয় লাশ। ফলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন হয়। পরে আবরারের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান হতে থাকলে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা গত ২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। মামলার বাদী আবরারের বাবার দৃঢ বিশ^াস এটি অপমৃত্যু নয়; বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা, অযত্ন, অমনোযোগিতা, গাফিলতি এবং অসাবধানতার কারণে ঘটেছে, যা বাংলাদেশ দ-বিধির ৩০৪-এ ধারার অপরাধ।

advertisement
Evaly
advertisement