advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভারত থেকে আনা মহিষের মাংস ৭ মাসেও খালাস করেনি ইগলু

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯
advertisement

নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ধরনের পচনশীল পণ্য জাহাজ থেকে নামার সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস নিতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের পাশাপাশি শিপিং এজেন্ট কর্ণফুলী লিমিটেড সাত মাসে ১৩ বার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে আনা এক কন্টেইনার মহিষের মাংস সাত মাসেও খালাস করেনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইগলু ফুড লিমিটেড। ফলে কনটেইনারের ভেতরে থাকা মাংস পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের এবি রেফার ইয়ার্ড এলাকায়। দুর্গন্ধ ছড়ানোর দায়ে আমদানিকারক এবং শিপিং এজেন্টকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানা আরোপের পর আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্ট একে অপরকে দোষারোপ করছে। আমদানিকারক বলছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়ায়

­মাংসের চালানটি সাত মাসেও খালাস নিতে পারেনি। এ সময়ে শিপিং এজেন্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি রাখলে মাংস নষ্ট হতো না। তাপমাত্রা ঠিক না রাখায় নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে শিপিং এজেন্ট বলছে, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পণ্য খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক। এ ছাড়া মাংসের মান খারাপ ছিল। তাই পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক নুরুল্লাহ নুরী জানান, ঢাকার সিআর দত্ত সড়কের ইগলু ফুডস লিমিটেড এক কন্টেইনার মহিষের মাংস নিয়ে আসে। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান সার্ভিস লাইন চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল। ইয়ার্ডে রাখা ওই কন্টেইনার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষ অবহিত করলে ২৭ সেপ্টেম্বর আমরা বন্দরে যাই। শুনানি শেষে আমরা ইগলু ফুডস এবং কর্ণফুলী লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করি। তিনি জানান, কন্টেইনার থেকে পচা মাংস এমনভাবে খালাস করতে হবে যাতে কোনো প্রাণী সেটা ভক্ষণ করতে না পারে। পচা মাংস থেকে মাটি, পানি ও বায়ু যাতে দূষণ না হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর পর পরিবেশসম্মত উপায়ে কনটেইনারটি পরিষ্কার করতে হবে।

শিপিং এজেন্টের অসহযোগিতার কারণে মাংস পচে গেছে অভিযোগ করে ইগলু ফুডের কমার্শিয়াল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ২৭ মার্চ কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। তখন লকডাউনের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খালাস নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কর্ণফুলী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মঈনউদ্দিন বলেন, পচনশীল পণ্য সাত দিনের মধ্যে খালাস নিতে হয়। তারা সাত মাসেও খালাস নিতে পারেনি। এনওসির ব্যবস্থা না করে পণ্য আনা উচিত হয়নি। আমাদের কন্টেইনারের ভাড়া দেয়নি। এ ছাড়া মাংস পচার কারণে কন্টেইনারের অবস্থাও খারাপ। এখন আমরা বেকায়দায় পড়েছি।

advertisement
Evaly
advertisement