advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি : পর্ব-৩
বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সেটাই প্রার্থীর ‘বড় যোগ্যতা’

জাকির হোসেন তমাল
৯ অক্টোবর ২০২০ ২১:৪৫ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২০ ১৪:১৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর ও তার মেয়ে আইইআর’র প্রভাষক শেখ সেমন্তি। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের নানা অনিয়মের ‘তথ্য-প্রমাণ’ সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আওয়ামীপন্থী ৬৩ জন শিক্ষক। এসব অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে উপাচার্যের নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, তুলনামূলক কম যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়। এসব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ শুক্রবার থাকছে তৃতীয় পর্ব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পেয়ে অন্তত ৪৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতা, তার নিজ জেলার প্রার্থী, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মেয়ে ও জামাতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকরের মেয়ে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর ছেলে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকনের মেয়ে, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শিবলী ইসলামের স্ত্রী এবং বর্তমান প্রশাসনের সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমানের ভাইয়ের ছেলেসহ অনেকেই নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের অনেকের থেকে আবেদন করা প্রার্থীর যোগ্যতা বেশি ছিল, কিন্তু তারা একাডেমিক যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেননি। বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছের না হওয়ায় আবেদন করা অনেক প্রার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার কোনো গুরুত্ব দেননি উপাচার্য।

আইইআর’র নিয়োগে স্বজনপ্রীতি  

শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের পর ২০১৮ সালে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউিটে (আইইআর) সাতটি পদের বিপরীতে আটজন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আইইআর সংশ্লিষ্ট দুটি বিশেষায়িত বিষয়ে দুজন এবং সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ে একজনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর বাইরে বাংলা, ইংরেজি, পরিসংখ্যান, সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯১তম সিন্ডিকেটে বিশেষায়িত বিষয়ে দুজন এবং সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষায় একজন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বিশেষায়িত বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া নাসরিন আহমেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আটজন প্রার্থীর মধ্যে পঞ্চম। তিনি আগের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের অযোগ্য। বিশেষায়িত বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া মুহাম্মদ কামরুল হাসানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছয়জন আবেদনকারীর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং তিনিও পূর্ব নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের অযোগ্য ছিলেন।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপকের মেয়ের নিয়োগ

চলতি বছরের ৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৮তম সিন্ডিকেটের ৩৮ নম্বর সিদ্ধান্তের ‘ক’ অংশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকরের মেয়ে শেখ সেমন্তিকে আইইআরের বিজ্ঞাপিত একটি প্রভাষক (সমাজবিজ্ঞান) পদের বিপরীতে স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপাচার্যের ‘খুব কাছের লোক’ হিসেবে অধ্যাপক এস এম আবু বকর ক্যাম্পাসে পরিচিত। ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএসএস শেষ করেন শেখ সেমন্তি। তিনি ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনে অযোগ্য। শেখ সেমন্তি মানবিক শাখা থেকে ২০০৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৩.৫৬ ও ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৪০ পান। এ ছাড়া স্নাতকে তিনি প্রথম শ্রেণি পেয়েছেন। 

শেখ সেমন্তিসহ আইইআরে প্রভাষক (সমাজবিজ্ঞান) পদের বিপরীতে মোট আবেদন করেছিলেন ১৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অনেক প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল শেখ সেমন্তির চেয়ে অনেক ওপরে। 

প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের থেকে কম যোগ্যতা থাকার পরও শুধুমাত্র বাবার পরিচয়ে শেখ সেমন্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন, এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে জানান, শেখ সেমন্তি নিজের যোগ্যতায় শিক্ষক হয়েছেন। 

এস এম আবু বকর বলেন, ‘সে (শেখ সেমন্তি) অনার্স এবং মাস্টার্সে দুটাই সেকেন্ড (মাস্টার্সে দ্বিতীয় শ্রেণি আছে)। এটুকু শুধু বললাম।’ সেমন্তির থেকে আবেদন করা প্রার্থীদের অনেকের যোগ্যতা ভালো ছিল, এ বিষয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক বলেন, ‘আপনি সেটা বোর্ডের সদস্যদের জিজ্ঞেস করেন।’ তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে উপাচার্যের পরিচিতির কারণে তার মেয়ে নিয়োগ পাননি। তখন প্রশ্ন করা হয়, তার মানে উপাচার্যের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক নয়? উত্তরে এস এম আবু বকর বলেন, ‘ভালো সম্পর্ক নেই, সে কথা বলব কেন আমি।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। ছবি : সংগৃহীত

 

উপাচার্যের নিজ জেলার প্রার্থীকে নিয়োগ

একই সিন্ডিকেটের ৩৮ নম্বর সিদ্ধান্তের ‘খ’ অংশে আইইআর’র বিজ্ঞাপিত একটি প্রভাষক (পরিসংখ্যান) পদের বিপরীতে এন এ এম ফয়সাল আহমেদকে  স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেন উপাচার্য। ওই পদে ২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এন এ এম ফয়সাল আহমেদের থেকে অনেক ভালো। আগের নীতিমালায় তার আবেদনের যোগ্যতা ছিল না। তিনি উপাচার্যের জেলা নাটোরের বাসিন্দা। শুধু ফয়সাল আহমেদকেই নয়, তার স্ত্রীকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য আবদুস সোবহান।

ট্রিপল-ই বিভাগে নিয়োগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৬তম সিন্ডিকেটে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগে চারজনকে (সহকারী অধ্যাপক দুজন ও প্রভাষক দুজন) নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অন্তত ৪০ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তখন প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান সারওয়ার আলী ও তানজিলা রহমান। তারা দুজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।

তাদের মধ্যে সারওয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের নীতিমালায় আবেদনের অযোগ্য ছিলেন। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীর ছেলে। আর তানজিলা রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকনের মেয়ে। উপাচার্য আবদুস সোবহানের প্রথম মেয়াদে তানজিনা রহমানের বোন তাহমিনা নাজনীন নৃবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন।

ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রথম থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনিয়মের আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ করেন তৎকালীন ট্রিপল-ই বিভাগের সভাপতি আবু জাফর মু. তৌহিদুল ইসলাম। দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে তিনি বলেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য বিভাগ থেকে প্ল্যানিং করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল, শুধুমাত্র ট্রিপল-ই থেকে পাস করা স্নাতক ও স্নাতকোত্তরধারীরা আবেদন করতে পারবে। সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার কথা বলা হয়েছিল। আর নিয়োগের অন্য যোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসারে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে বিষয়টি তারা তুলে দিয়ে শুধুমাত্র লেখে, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে’ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয় একটা ভেগ টার্ম (অস্পষ্ট শব্দ), এতে করে অনেকে আবেদনের সুযোগ পেয়ে যায়। এটা তারা করেছে তাদের সুবিধার জন্য। পরে তিনি বিভাগের সভাপতি থাকা অবস্থায় একাধিকবার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্ল্যানিং কমিটি থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান নিয়োগ দেননি। পরে নতুন সভাপতি আসার পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এই অধ্যাপক জানান, প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া সারওয়ার আলী ও তানজিলা রহমানের থেকে আরও অনেক ভালো ফলধারী প্রার্থী আবেদন করেছিল। কিন্তু তাদের কেন নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভালো জানবে।  

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলী (বাঁয়ে) ও তার ছেলে ট্রিপল-ই বিভাগের প্রভাষক সারওয়ার আলী। ছবি : বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

 

এ বিষয়ে জানতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম রোস্তম আলীকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তার ভাই মারা গেছেন, তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না।

নৃবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগে অনিয়ম

গত বছরের ১০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তিনটি (সহকারী/প্রভাষক) স্থায়ী পদে নিয়োগের জন্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দেশের বিভিন্নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন প্রার্থী ওই পদের বিপরীতে আবেদন করেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। আর ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৮ নম্বর সিন্ডিকেট সভার ৫ নম্বর সিদ্ধান্তে নৃবিজ্ঞান বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগ দেন উপাচার্য। তারা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থী এস এম সানজিদ রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাদিয়া আউয়াল তৃষা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদা ফাতেমা।

ভালো ফলধারীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফলাফল থাকা সত্ত্বেও মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে এস এম সানজিদ রহমানকে (স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৬) নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বর্তমান প্রশাসনের সহকারী প্রক্টর এস এম মোখলেসুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে।

সানজিদ রহমানের চেয়ে আরও অনেক প্রার্থীর (মিস মাহবুবা নাজনীন স্নাতকে ৩.৭ ও স্নাতকোত্তরে ৪.০০, খলীলুল্লাহ মুহাম্মদ বায়েজীদ ৩.৬ ও ৩.৯, মো. গোলাম মোস্তফা ৩.৮ ও ৩.৮, নূরুন্নাহার আক্তার ৩.৭ ও ৩.৮, শারমিন নাহার সেতু ৩.৬ ও ৩.৮, লাজু আক্তার ৩.৬ ও ৩.৭, সুমাইয়া হাসিন ৩.৫ ও ৩.৭) ফলাফল ভালো ছিল।  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন রাদিয়া আউয়াল তৃষা (স্নাতকে ৩.৫ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৭)। তার চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা হলেন মো. মোজাহার রহমান শাহ ৩.৫ ও ৩.৮, মাছুমা তাবাচ্ছুম ৩.৫ ও ৩.৮, তামান্না আক্তার বিন ৩.৬ ও ৩.৭, মোছা. মানছুরা পারভীন ৩.৫ ও ৩.৭, মিফতাহুল জান্নাহ ৩.৬ ও ৩.৬।

নিয়োগ পাওয়া মাহমুদা ফাতেমা ২০০৬ ও ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে বিএসএস (দ্বিতীয় শ্রেণি) ও এমএস (প্রথম শ্রেণি) পাস করে প্রায় ১৩ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২ জন প্রার্থী আবেদন করেন, যাদের মধ্যে ৯ জন প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল মাহমুদা ফাতেমার থেকে অনের ওপরে এবং বাকিদের ফলাফল তার সমান। আবেদনকারীদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতক পর্যায়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা হলেন নিগার সুলতানা ৩.৭ ও ৩.৯, মো. দাইয়ান বেলাল  ৩.৭ ও ৩.৮,  অমিত দত্ত ৩.৬ ও ৩.৮, ফিরোজ আহমেদ ৩.৬ ও ৩.৯, নাফিসা দেলোয়ার ৩.৬ ও ৩.৭, জান্নাতুল ইসলাম ৩.৮ ও ৩.৮, মিস রিপা খাতুন ৩.৬ ও ৩.৯ এবং জুয়েল মোল্যা ৩.৫ ও ৩.৭। কিন্তু তারপরও কেন মাহমুদা ফাতেমাকে নিয়োগ দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন বিভাগের অনেক শিক্ষকের।

নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককে মনোনয়ন দেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে সাধারণত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগ থাকা সত্ত্বেও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন জুনিয়র শিক্ষককে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের সদস্য করা নিয়ে ওই সময়ে অনেক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন।

নিয়োগ বোর্ডের ওই সদস্য ২০০৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। অন্যদিকে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদা ফাতেমা ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগ ও অন্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের ওই সদস্যকে ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ দিয়েছিলেন উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। ওই সময় উপাচার্যের প্রথম মেয়াদ চলছিল। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের সঙ্গে যোগসাজশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মেধাবী ছাত্রদের বাদ দিয়ে ওই সদস্যের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন : 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি : পর্ব-১
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি : পর্ব-২

advertisement
Evaly
advertisement