advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চোখের জলে ক্রিকেটকে বিদায় ৪২৭ উইকেট শিকারির

স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৩:১৯ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৩:৩৯
ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর অশ্রুসিক্ত উমর গুল।ছবি : টুইটার থেকে নেওয়া
advertisement

ক্রিকেটই যার ছিলো ধ্যানজ্ঞান, ২০ বছর ধরে খেলছেন এই খেলা। দুই দশক ধরে নিত্য দিনের সঙ্গী এই ক্রিকেট থেকে তাই বিদায় নেওয়ার সময় চোখের জহল আটকাতে পারলেন না পাকিস্তানি পেসার উমর গুল। সব ধরণের ক্রিকেটকে ‘গুড বাই’ জানিয়ে দিয়েছেন এই পেসার, বিদায় বেলায় নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি, কেঁদে উঠেন হু হু করে।

গতকাল শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে তার দল বেলুচিস্তানের বিদায়ের পর এই ঘোষণা দেন উমর গুল। ক্রিকেটে পাকিস্তানকে মনে করা হয় পেস বোলারদের আখড়া। এই আখড়ায় থেকেও খেলে গেছেন পাক্কা ২০ বছর। ২০০১-০২ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয়, সেই ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই ইতি টানেন ক্রিকেটের বর্ণিল ক্যারিয়ারের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে পা রাখেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় ওয়ানডেতে।

প্রায় চার বছর আগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার দেশের হয়ে মাঠে নামেন। নিয়মিত মুখ ছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। পাকিস্তানি জার্সিতে ৪৭ টেস্টে ১৬৩, ১৩০ ওয়ানডেতে ১৬৯ ও  ৬০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮৫টি উইকেট শিকার করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে তার উইকেট সংখ্যা ৪২৭। এ ছাড়া ১২৫ প্রথম শ্রেণীর ১২৫ ম্যাচে ৪৭৯,  ২১৩ লিস্ট এ ম্যাচে ২৮৬ ও   ১৬৭ টি-টোয়েন্টিতে (ঘরোয়া) ২২২ উইকেট শিকার করেন। স্বীকৃত ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ৯৮৭।

ব্যাটি উঁচিয়ে উমর গুলকে বিদায় জানাচ্ছেন তার দলের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা। ছবি : টুইটাের থেকে নেওয়া্

 

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাকে ইয়র্কারের জন্য সেরা বলা হতো। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপ জয়ে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে ভারতের কাছে হারে পাকিস্তান। ওই বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ উইকেট তার দখলে ছিলো।

কান্না ভেজা বিদায়ের সময় উমর গুল বলেন, ‘দুই দশক ধরে আমার ক্লাব, শহর, প্রদেশ ও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা ছিল আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আমি ক্রিকেটকে পুরোপুরি  উপভোগ করেছি। এই  কঠোর পরিশ্রম, নিবেদন ও প্রতিজ্ঞার মূল্য কীভাবে দিতে হয় এই খেলা আমাকে শিখিয়েছে। এই ভ্রমণে অসংখ্য মানুষকে পাশে পেয়েছি, যারা সহায়তা ও সমর্থন করেছেন। তাদের সবাইকে, আমার সব সতীর্থের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এখন পরিবারের মানু্ষদের সময় দিতে চান জানিয়ে গুল আরও বলেন, ‘আমাকে সমর্থন দেওয়ায় ভক্তদের ধন্যবাদ দিতে চাই। ওরাই আমার ক্যারিয়ারের অনেক বড় একটা অংশ। পরিবারও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন কাছের মানুষদের সাথে সময় কাটাতে চাই। তবে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা অনেক কষ্টের।’

advertisement
Evaly
advertisement