advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে : বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত । পরীক্ষা হবে অনলাইনে । বাস্তবায়ন হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতিও

এম এইচ রবিন
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৪
advertisement

পরীক্ষার মাধ্যমে অনার্স ১ম বর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশেষ সফটওয়্যারে অনলাইনে এবং সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের।

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালগুলোর বিভিন্ন সেশনের পরীক্ষাও অনলাইনে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। পরিষদের সভায় নীতিগত এমন সিদ্ধান্ত হলেও চূড়ান্ত হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ’-এর সভা শেষে একাধিক উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা। বিষয়টি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আগামী সেশনে অনার্স ১ম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে- মর্মে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এটি অনলাইনে নাকি অফলাইনে নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হবে

‘কোভিড-১৯’ সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ আমাদের সময়কে জানান, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে নতুন সেশনে ভর্তি হবে এবং সমন্বিত

ভর্তি পদ্ধতিতে- এটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বৈঠক হবে। আজকের আলোচনায় বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। এর পর

সবাই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করব। পরে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এ বছর ‘গুচ্ছভর্তি’ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে চুয়েট উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, আমার ব্যক্তিগত মত এটি হলে ভালো হতো। এ বিষয়ে বিস্তারিত ইউজিসি নির্দেশনা দেবে।

আমাদের সভায় আলোচনা হয়েছে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, আজকের সভায় আলোচনা হয়েছে কেউ দ্বিমত করেননি। এখন সামনের কথা বলতে পারি না। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতিতে যাওয়া দরকার।

তিনি বলেন, বিশেষ একটি সফটওয়্যার আজ সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর উপস্থাপন করেছেন। এটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। উপাচার্যরা

বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। পরীক্ষার জন্য যতটুকু নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা দরকার অনেকগুলো বিষয় এই সফটওয়্যারেই আছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন/ডিভাইস নেই এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব সীমিত। এর একটা পরিসংখ্যানও ইউজিসি তৈরি করেছে। তাদের সুযোগ-সুবিধার জন্যও

ইউজিসি ইতোমধ্যে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ও ডিভাইস কীভাবে দেবে সেটা সরকার দেখবে। আমরা পরীক্ষা অনলাইন করার জন্য যেসব নিরাপত্তা স্বচ্ছতা দরকার সেটা নিশ্চিত করে সফটওয়্যার উপস্থাপন করব।

ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, দেশের ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষার্থীর অনলাইনে ক্লাস করার মতো ডিভাইস এবং ইন্টানেট সুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে তারা কীভাবে অনলাইনে পরীক্ষা দেবে সেটি এখন বড়

প্রশ্ন। তাদের ডিভাইস এবং ইন্টারনেট সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাদের সময়কে বলেছেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে এবার সশরীরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এ সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই সফটওয়্যারের ভিত্তিতে প্রথমে

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নিতে বলা হয়েছে। এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেটিকে আরও যুগোপযোগী করে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। আর এই সফটওয়্যারে আন্তর্জাতিক মানদ- ব্যবহার করা হয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউজিসিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গুচ্ছ

করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে একটি, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আরেকটি গুচ্ছ করে এই

ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এইচএসসি ও সমমানের নতুন পদ্ধতির ফলের ভিত্তি করে কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণ হবে, তা বিশ্ববিদ্যালগুলো ফল প্রকাশের পরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ

বছর শতভাগ পাস হবে। এর মধ্যে জিপিএ গ্রেডের পরিসংখ্যান কত হচ্ছে তা জানি না। ফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করবেন। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করবেন। করোনা সংক্রমণের কারণে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের

পরীক্ষা বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে তাদের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও

সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে। মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটির ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি’ অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের ফল তৈরি করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে

ফল প্রকাশের লক্ষ্য জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের কারণে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালসমূহে বিভিন্ন সেশনের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। গত আগস্ট মাস থেকে অনলাইনে

এবং সংসদ টেলিভিশনে বিভিন্ন স্তরের ক্লাস সম্প্রচার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগেও নিয়মিত

বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অনলাইনে জুমসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারে।

advertisement
Evaly
advertisement