advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গণপ্রতিরোধের আহ্বান ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফেনীতে নোয়াখালীমুখী লংমার্চে হামলায় আহত ৩০

নোয়াখালী ও ফেনী প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৪
ফেনী শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মোড়ে গতকাল নোয়াখালীমুখী ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত এক কর্মীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -আমাদের সময়
advertisement

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ধর্ষণের বিরুদ্ধে ৯ দফা দাবি আদায়ে রাজধানী ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখী দুদিনের লংমার্চ। গতকাল

শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় নোয়াখালীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র- সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি

সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধে এবং এর বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্যর্থ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

ছাত্র- নারী-সাংস্কৃতিককর্মীদের যৌথ উদ্যোগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত নোয়াখালী অভিমুখী এ লংমার্চে হামলায় আহতদের মধ্যে ২৭ জনকে নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা

হয়েছে। এ হামলার জন্য ছাত্রলীগ-যুবলীগকে দায়ী করেছেন লংমার্চের আয়োজকরা। তারা আরও জানান, দাগনভূঞা সদরেও তাদের সভার প্রস্তুতি চলাকালে প্রাক-সমাবেশে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আরও অন্তত ১০ জন

আহত হয়েছেন। এসব হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট্রের সভাপতি মাসুদ রানা আগামীকাল ১৯ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও ২১ অক্টোবর রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

এদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে লংমার্চে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন ফেনী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এন সালাউদ্দিন ফিরোজ। বিকালে এক

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত নয়। লংমার্চ কর্মসূচি আমরাও সমর্থন করি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তারা লংমার্চের নামে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জেলা আওয়ামী

লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারীর ছবিসংবলিত ফেস্টুনে বিভিন্ন অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য লেখায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এতে ছাত্রলীগ অত্যন্ত মর্মাহত এবং এর বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

অন্যদিকে ফেনী হামলাকা-ে থানায় এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি জানিয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শনিবার বিকালে

ঘটনাস্থল ফেনী শহরের দোয়েল চত্বর এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

লংমার্চপরবর্তী সমাপনী সমাবেশ শুরু হয় সাড়ে ৪টায়, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ, নোয়াখালী শাখার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাসুল মামুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন

প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। তারা ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ফেনীতে লংমার্চে হামলাকারীরা সরকারদলীয় নেতাকর্মী বলে তারা অভিযোগ

করেন। লংমার্চে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ সময় তারা সরকারের পতত্যাগ দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী

নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে।

সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে, ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য

করতে হবে।

সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিকচর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।

তদন্তকালীন ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত

করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে, ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্যপ্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে

হবে। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দচয়ন পরিহার করতে হবে এবং গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়াার চেষ্টাকে

শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আনোয়ারুল হক পলাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা

দত্ত, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন প্রমুখ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে লংমার্চের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সকালে কুমিল্লা, ফেনীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, ফেনীর কোম্পানির মোড় হয়ে ঢাকা থেকে আসার পথে দাগনভূঞা উপজেলায় হামলার শিকার হয় লংমার্চ। এতে সামিয়া জামান ইমা (২১), আসমাউল হুসনা (২০),

মাহি (২১), মাহমুদা দিপা (২০), ফিতন ফকির (২৮), ইমতিয়াজ আহম্মেদ রাকিব (২৪), কৃজম ফকির (২৫), মিরাজ হোসেন (২২), মারিয়া আক্তার (২০), এইচএম রিয়াদ হোসেন (২৭), মাহির শাহরিয়ার রেজাসহ

(২৫) ২৭ জন আহত হন। বিকাল ৩টার দিকে নোয়াখালীতে এসে আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে চৌমুহনী লাইফ কেয়ার হাসপাতাল ও ১১ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার হাত-পাসহ

শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আল কাদরি জয় জানান, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষিত ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়। পথে ফেনীতে দুর্বৃত্তরা

আমাদের কর্মসূচিতে হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেকেই আহত হন।

বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখ বলেন, আহতরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও চৌমুহনী লাইফ কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাদের খবরাখবর নিয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement