advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নওগাঁয় হেলাল ও ঢাকায় মনুর জয় : উপনির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৪
advertisement

নওগাঁ-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নওগাঁর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন

হেলাল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি শেখ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট।

ঢাকা-৫ আসনে জয়ের পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনু। ১৮৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৮টির ফল পাওয়া গেছে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনু পেয়েছেন ৪৪১৬৩ ভোট। বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন

পেয়েছেন ২৮০৮, জাতীয় পার্টির প্রার্থী পান ৪০৩।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, আজকের এই জয়লাভ প্রধানমন্ত্রীর ভালো কাজের ফল। এই ভোটে প্রমাণ হলো বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। পাশাপাশি ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণ প্রমাণ করে দিল শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষ সরকার। আগামীতে এই দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করব। এবং দেশ ও জাতির হয়ে কাজ করে

যাব। অন্যদিকে, বিএনপি মনোনিত প্রার্থী রেজাউল ইসলাম বিকালেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ভোটে কোনো রকম নিয়ম মানা হচ্ছে না। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে থেকে

বের করে দেওয়া হচ্ছে।

রানীনগর ও আত্রাই নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনের ১৬টি ইউনিয়নে ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের ৭২১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৩

হাজার ৭৫৮ জন এবং নারী এক লাখ ৫২ হাজার ৯৬৭ জন। ৩৬.৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে শনিবার সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়, চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। প্রতিটি ভোটকক্ষে একটি করে ইভিএম এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কারিগরি দল রাখা হয়। কেন্দ্রে সবার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী

এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে ব্যানারও ছিল।

এর আগে ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্র থেকে। পরে ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

সালাহউদ্দিনের অভিযোগের সূত্র ধরে বেলা সোয়া তিনটার দিকে ৭০ নং ওয়ার্ডের শূন্য টেংড়া সালেহিয়া দাখিল মাদ্রসা ভোটকেন্দ্র, ডেমরার মাতুয়াইলের ধার্মিকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ধলপুর কমিউনিটি

সেন্টারসহ অন্তত বিশটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বিএনপি কোনো এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শূন্য টেংড়া সালেহিয়া দাখিল মাদ্রসার ভোটকেন্দ্রের পিসাইডিং অফিসার সজীব কুন্ডু আমাদের সময়কে জানান,

সকাল থেকে তার কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর এজেন্ট থাকলেও কোনো বুথেই বিএনপির পোলিং এজেন্টকে দেখা যায়নি।

ঢাকা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুস সবুর আসুদ ভোট নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের যে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছিল তা এখনো অব্যাহত আছে এই

উপনির্বাচনের মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণ হলো। সকাল থেকে এজেন্টদের হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। শুধু একটি বিশেষ দলের এজেন্টরা উপস্থিত থেকে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতে

শুধু প্রার্থী নয় ভোটাররাও নিরাপদ নয়।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, সালাহউদ্দিন শুরু থেকে নালিশ দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তার কোনো ব্যনার-ফেস্টুন নেই, নেই কোনো প্রচার, সে নালিশ পার্টির লোক শুধু নালিশ করেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে নওগাঁ-৬ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আত্রাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক খান বলেন, এ আসনের প্রতিটি ভোটকক্ষে নির্বিঘেœ ভোট হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ইভিএমে সুন্দরভাবে ভোট

হয়েছে। কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দেয়নি ইভিএমে।

তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে ‘পরিবেশ না থাকা, কেন্দ্র দখল’সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-৫ আসনের মতো নওগাঁয় ভোটারের তেমন উপস্থিতি ছিল না। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়। অন্যদিকে ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে শূন্য হয় নওগাঁ-৬ আসন।

advertisement
Evaly
advertisement