advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পটুয়াখালীতে নিজ ঘরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

আমাদের সময় ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৪
advertisement

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূর হাত-মুখ বেঁধে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি নির্যাতন ও গণধর্ষণের পর অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে ওই রাতেই গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শনিবার সকালে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে

চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি অসুস্থ। তার মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে চরমার্গারেট গ্রামের মজিবর শরিফের ছেলে শাকিল (২০) ও চরলক্ষ্মী গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে আল হাদীকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানায়, ওই গৃহবধূর বাড়ি নির্জনে।

আটক শাকিলের বাড়ি ওই বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে। প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় ১৫ দিন আগে গৃহবধূর ৯ বছরের ছেলেকে ঢিল নিক্ষেপ করে শাকিলের ভাই। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। শুক্রবার সালিশ মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শাকিলের পরিবার সালিশ বৈঠকে রাজি হয়নি।

ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, আসরের আগে তিনি কাশেম মোল্লার সøুইসে (পার্শ্ববর্তী এলাকা) গিয়েছিলেন। রাত ৯টায় বাড়ি ফেরার সময় পথে তার মোবাইলে বাড়ি থেকে ফোন আসে। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার

কাছে বিষয়টি সন্দেহের হলে দ্রুত বাড়িতে যান। গিয়ে ছেলেমেয়ের কান্নার শব্দ শুনে ঘরে ঢোকেন। তখন বাতি বন্ধ থাকায় টর্চলাইট মেরে দেখেন, তার স্ত্রীকে টেবিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। নাক-মুখ ও চোখ ওড়না দিয়ে

বাঁধা। পরে ডাক-চিৎকার দিলে লোকজন আসে। এরই মধ্যে তার স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রোগী অনেক অসুস্থ থাকায় দ্রুত গলাচিপা নিয়ে যান। সেখান থেকে পটুয়াখালী নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীকে শারীরিক

নির্যাতন এবং গণধর্ষণ করা হয়। পরে ঘর থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনজন জড়িত আছেন বলে তথ্য দিয়েছেন স্বামী। প্রতিবেশীরা জানান, ভিকটিম মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। পরনের

পোশাক এলেমেলো ছিল।

অপরদিকে শনিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) আহম্মদ আলী ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তাসলিমা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

(ওসি) মো. আলী আহম্মেদ বলেন, ভিকটিমের আত্মীয়স্বজনের কেউই এলাকায় নেই। তারা পটুয়াখালী গেছে। গলাচিপা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছি। একজন রোগী আসছিল। রোগীর বক্তব্য তাকে মারছে (মারধর) এবং

ধর্ষণ করেছে। আমরা তাকে পটুয়াখালী পাঠিয়ে দিয়েছি। ধর্ষণ কিনা তা বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে। এখনো মামলা হয়নি। তবে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ

সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) আহম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা যায় গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি এখন বলা যাচ্ছে না। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জেনেই ভিকটিমের স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনায় জড়িত তিনজনের নাম বলেছেন। তাৎক্ষণিক ওসি সাহেব এবং চরমোন্তাজ তদন্ত

কেন্দ্রের ইনচার্জের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখব।

ইটনায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ

কিশোরগঞ্জের ইটনায় পুকুরে গোসল করে বাড়িতে ফেরার পথে সাড়ে তিন বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শনিবার উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের রাজি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে

তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন আখতার তন্নী কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

অন্যদিকে ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত কিশোর রাকিব (১৬) গা-ঢাকা দিয়েছে। সে ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের রাজী গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে। সে সম্পর্কে শিশুটির আপন চাচাতো ভাই।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুকুরে গোসল সেরে শিশুটি বাড়ি ফিরছিল। এ সময় রাকিব শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে আহত হয়ে চিৎকার করতে থাকলে তার

মা শিশুটিকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন আখতার তন্বী শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল

হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান থানা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় শিশুটিকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বিপিএমকে বিষয়টি অবহিত

করেন। এ খবরের ভিত্তিতে ইটনা থানা পুলিশের একটি টিম বিকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

সাভারে নারীকে ধর্ষণ ও শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

পৃথক ঘটনায় সাভারে এক নারী গণধর্ষণের শিকার ও অপর ঘটনায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

পুলিশ বলছে, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সামাইর গ্রামে এক নারী (৩০) বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ওই নারীর সঙ্গে গ্রামের বখাটে যুবক রাজু আলীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে গতকাল সকালে নারীকে

মোবাইল ফোনে সামাইর গ্রামে রাজু আলী নিজ ভাড়াবাসায় ডেকে নিয়ে রিয়াজ আলীসহ জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণকারীরা হত্যার চেষ্টা করে। নারীর চিৎকারে

এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ধর্ষণকারী দুই ব্যক্তিকে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গণধর্ষণের শিকার ওই

নারী ধর্ষণকারী রাজু আলী ও রিয়াজ আলীকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ দুই আসামির রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার কুরাগাঁও এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শাকিল নামের (১৬) এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সোনাগাজীতে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

ফেনীর সোনাগাজীতে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শনিবার সকালে আবদুল হক নামে বৃদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনাটি গত শনিবার বিকালে উপজেলার আমিরাবাদ

ইউনিয়নের চরকৃঞ্চজয় গ্রামে ঘটে। সে ওই গ্রামের মৃত সৈয়দের রহমানের ছেলে। মামলায় অভিযুক্ত বৃদ্ধাকে সহযোগিতা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে নেছার উদ্দিন ও ভাবলু নামে স্থানীয় দুই সরকারদলীয় নেতাকে

আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় রগুনাথপুর কায়সার রায়হান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ঘটনার সময় বাড়ির পাশে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আবদুল হক

তাকে কৌশলে কাছে ডেকে নিয়ে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বসতঘরে নিয়ে যায়। পরে বৃদ্ধ শিশুটির পরনের কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার দিয়ে বসতঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে তার

বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানায়। পরদিন শিশুটির পরিবার সমাজে বিচার দিলে স্থানীয় সালিশদার সরকারদলীয় নেতা নেছার উদ্দিন ও মো. ভাবলু সমঝোতার নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানায়, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।

চুনারুঘাটে কিশোরীকে ধর্ষণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ঘরে একা পেয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। আজ ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের মীরের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট

থানার এসআই মুজাহিদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষক মিজান এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। মিজান মীরের পাড়া গ্রামের মফিজ মিয়ার

ছেলে। ধর্ষিতা কিশোরীর মা সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় ওই কিশোরী ঘরে একা ছিল।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাউছার বাহার ও স্থানীয়রা বিষয়টি জানানোর পর ওই কিশোরীকে পুলিশ উদ্ধার করে। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিজান এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত

একজন মাদকাসক্ত।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আলী আশরাফ বলেন, কিশোরী পুলিশি হেফাজতে রয়েছে, আজ তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। আসামি গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।

ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ

স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ‘প্রণয়’ গড়েন আলমগীর। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখে সেলফোনে। এ ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের জন্য প্রায়ই ডেকে নেন ওই নারীকে।

অতিষ্ঠ নারী নিজের পরিবার ও পুলিশকে জানিয়ে রাখে বিষয়টি। পরে গতকাল শহরের একটি হোটেলে ওই নারীসহ আলমগীরকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় আটক করে পুলিশ। ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়।

আলমগীর ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও বছরখানেক আগে স্থগিত হওয়া বরকল উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। আলমগীরের ফাঁসির দাবিতে বরকলের এলাকাবাসী

শনিবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।

ভুক্তভোগী নারী জানিয়েছেন, ‘বিয়ের প্রলোভনে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে আলমগীর। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখায় ইন্টারনেটে ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিত। শুক্রবার এক লাখ টাকা নিয়ে তার সঙ্গে

দেখা না করলে ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাঙামাটি প্রতিনিধি, সাভার প্রতিনিধি, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি ও চুনারুঘাট প্রতিনিধি।

advertisement
Evaly
advertisement