advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুর্বল রাজস্বে হতাশ অর্থ বিভাগ : কর জিডিপির অনুপাত সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন

আবু আলী
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৫
advertisement

অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের মাত্রা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ফলে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বাড়লেও জিডিপির তুলনায় তা খুবই কম। বর্তমানে রাজস্ব আহরণ জিডিপির অনুপাতে সারাবিশ্বের মধ্যে কম। দেশে কর না দেওয়ার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থাকবে। কর আহরণের দুর্বল চিত্রে হতাশ অর্থ বিভাগ। সম্প্রতি নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে এমন হতাশার কথা উঠে এসেছে। খবর অর্থ বিভাগ সূত্রের।

কর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আয় কম হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে কর ফাঁকি। তারা বলছেন, জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যাদের আয় করযোগ্য, তারা করের আওতার বাইরে রয়েছেন। আবার যারা কর দিচ্ছেন, তারাও প্রকৃত আয় গোপন করে কর ফাঁকি দিচ্ছেন। বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রি ও মুনাফা কমিয়ে দেখাচ্ছে। এ ছাড়া বেশকিছু খাত ও প্রতিষ্ঠান কর অবকাশের সুবিধায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। আবার রাজস্ব আহরণে এনবিআরের কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট আদায় করলেও তা দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব কম আহরণের এগুলোই বড় কারণ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির আকারের তুলনায় রাজস্ব আয়ের অনুপাত সবচেয়ে কম। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ সর্বনিম্নে। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে গড়ে জিডিপির ৯ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল মোট রাজস্ব আহরণ। এ সময় ভারতে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ, নেপালে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৪ দশমিক ৭ ও শ্রীলংকায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল কর-জিডিপির গড় অনুপাত। আর উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশে এ অনুপাত ছিল গড়ে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে উন্নত দেশগুলোয় গড়ে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল কর-জিডিপির অনুপাত। জানা গেছে, করসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণেও এনবিআরের দাবি করা বিপুল পরিমাণের অর্থ আইনি বেড়াজালে আটকে রয়েছে। করসংক্রান্ত বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যক্তি ও এনবিআরের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার মামলা রয়েছে, যেগুলোয় ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন আদালতে করসংক্রান্ত মামলাগুলো ঝুলে আছে।

দেশের রাজস্ব আহরণ কৌশলে দুর্বলতার বিষয়টি সরকারও স্বীকার করে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্য মেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এক দশকে স্থিতিশীল উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরও রাজস্ব আহরণ কৌশলে দুর্বলতা থাকায় রাজস্ব প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য সংস্কারের প্রয়োজন। এ জন্য কর ভিত্তির সম্প্রসারণ, কর রেয়াতের সংখ্যা কমানো, কর হার যৌক্তিকীকরণের পাশাপাশি উন্নত প্রতিপালন ও পরিসেবার জন্য রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই।

নগদ ও ঋণ পরিচালন কমিটির (সিডিএমসি) কর্মকর্তারা বলেছেন, যদিও সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য হিসেবে রাজস্ব-জিডিপি (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট) অনুপাতকে ২৪.১ শতাংশে বাড়ানোর জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়েছে।

বৈঠকে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার জানিয়েছে, আমাদের মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে না যদি না দেশের আয়ের জিডিপি অনুপাত উন্নত হয়। তিনি বলেন, ট্রেজারি বন্ডে সুদের আয়ের ওপর পাঁচ শতাংশ কর আদায়ের কারণে দেশের দ্বিতীয় বন্ড বাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ জানান, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যারা ভাগীদার তারা কর কম দেয়। এখানে বড় ধরনের মিসম্যাসের কারণে জিডিপির ২-৩ শতাংশ হারিয়ে যাচ্ছে। আবার সরকারি অনেক প্রকল্প বিশাল পরিমাণে কর ছাড় বা রেয়াতের আওতায় রয়েছে। যদিও জিডিপিতে এসব প্রকল্পের অবদান যোগ হচ্ছে। জিডিপিতে কৃষির বড় অবদান থাকলেও এ খাতে কোনো কর নেই। ফলে জিডিপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ করের আওতায় নেই। এ কারণেই আমাদের কর-জিডিপির অনুপাতে এত বড় ব্যবধান। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জিডিপির ১৫-১৬ শতাংশ রাজস্ব আয় হওয়া উচিত।

advertisement
Evaly
advertisement