advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘কাজি’ নিয়োগ দিয়ে কাজি সাদেক উল্যাহর ব্যবসা!

রহমান জাহিদ
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৫
advertisement

ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মো. সাদেক উল্যাহ ভুইয়া। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের আওয়াতাভুক্ত এলাকায় একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিয়ে জমজমাট অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার নিয়োগ দেওয়া মো. সামসুল আলম শাহীন নামে এক ভুয়া কাজিকে সম্প্রতি আটক করা হয়। পরে প্রতারণার মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সনদ অনুযায়ী রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন ২৮ জনসন রোডের দ্বিতীয় তলায় মো. সাদেক উল্যাহ ভুইয়ার কাজী অফিস। ব্যবসা বেশ জমজমাট হওয়ায় ১৪ কোর্ট হাউস স্ট্রিটেও তিনি একটি অফিস খোলেন। সময়-সুযোগমতো দুই অফিসেই বসেন। তবে নিজে কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রি করতে যান না। এই কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন ১০-১২ জন সহকারী, মূলত তারাই নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির সব কাজ করেন। কাজি মো. সাদেক উল্যাহ কেবল ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করেন এবং চুক্তি অনুযায়ী সহকারীদের কাছ থেকে নেন কমিশন।

ঢাকা জজকোর্টে প্রায় প্রতিদিনই কোর্টম্যারিজের উদ্দেশ্যে শতাধিক বিয়ে কিংবা তালাক হয়। তাই মো. সামসুল আলম শাহীন ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট সাদেক উল্ল্যাহ ভুইয়াকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে ওই এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার চুক্তি করেন। চুক্তিনামায় বলা হয়, ২৩/১ কোর্ট হাউস স্ট্রিটস্থ মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতির নিচতলায় নিকাহ রেজিস্ট্রারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে শাহীন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে তাকে সাদেক উল্যাহ ভুইয়ার অন্য কোনো নিয়োগকৃত সহকারী বাধা দিতে পারবেন না। বিনিময়ে প্রত্যেক বিয়ের জন্য তিনশ এবং তালাকের জন্য একশ টাকা কাজি সাদেক উল্যাহ ভুইয়াকে দেওয়া হবে। আর নিকাহ ও তালাকের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য তাকে ভলিয়ম সরবরাহ করা হবে। ওই চুক্তিনামার ভিত্তিতেই দীর্ঘ ১০ বছর নির্বিঘ্নে মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতির নিচতলায় একটি কক্ষে নিকাহ রেজিস্ট্রারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন শাহীন। এর মধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রতারক হিসেবে গ্রেপ্তার হন কাজী সাদেক উল্যাহর নিয়োগপ্রাপ্ত ওই কাজী মো. সামসুল আলম শাহীন ও তার সহকারী আবু বকর সিদ্দিক। ওইদিনই ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাদেকুল ইসলাম ভূইয়া জাদু কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা [৩৭ (৯) ২০২০] করেন। পরদিন গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠান সিএমএম আদালত। সেই থেকে তারা কারাগারেই রয়েছেন। তবে ওই মামলায় অজ্ঞাতকারণে সাদেক উল্যাহ ভুইয়াকে আসামি করা হয়নি।

অভিযোগ সম্পর্কে কাজী সাদেক উল্যাহ ভুইয়া মোবাইল ফোনে আমাদের সময়কে বলেন, ‘কাজী তো আমি একজনই। সব কাজীই এভাবে সহকারী নিয়োগ দিয়ে কাজ করান।’ তবে কারাগারে যাওয়া শাহীনের সঙ্গে প্রথমে চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। পরে বলেন- ‘১০ লাখ নয়, এক লাখ টাকা নিয়েছিলাম। ঠিকমতো বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রির টাকা না দেওয়ায় বাকি টাকাগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে।’

advertisement
Evaly
advertisement