advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সার্জেন্টের আবদার না রাখায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ!

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৫
advertisement

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী মারসা পরিবহনের একটি বাসে এক স্বজনকে তুলে দিতে চান পুলিশ সার্জেন্ট মাহমুদ। কিন্তু চালক তাতে রাজি না হওয়ায় সার্জেন্ট ওই চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নেন। এতে ক্ষুব্ধ চালকরা সড়কের উভয়পাশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে থানাপুলিশের চাপের মুখে ওই সার্জেন্ট চালকের লাইসেন্স ফিরিয়ে দেন। তবে এর মধ্যে এক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে সড়কের উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় গাড়ির। লোকজন পড়েন ভোগান্তিতে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্টেশনে গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মোহাম্মদ ইসমাইল নামে মারসা পরিবহনের ওই বাসচালক আমাদের সময়কে বলেন, নিয়মের বাইরে একজন যাত্রীও তোলা হলে জরিমানা গুনতে হয়। এটি বারবার বলার পরও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মাহমুদ তার এক স্বজনকে আমার বাসে তোলার জন্য চাপ দেন। আমি অপারগতা জানালে তিনি আমার লাইসেন্স নিয়ে নেন। অনুনয় করে বলার পরও তিনি সেটি না দেওয়ায় আমি আর গাড়ি চালাইনি। পরে সড়কের উভয়পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে গেলে থানা থেকে পুলিশ আসে। থানার এক ওসি এসে বকাঝকা করলে সার্জেন্ট আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিরিয়ে দেন।

তবে সার্জেন্ট মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, আমি কাউকে বাসে তুলতে যাইনি। নিজে লোহাগাড়া থেকে কেরাণীহাট যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাসচালক তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে আমার গায়ে ধাক্কা লাগে। তখন আমি বাসচালকের অনুমতিপত্রটি নিয়ে নিই। একজন সার্জেন্ট হিসেবে আমি তো এটি চাইতেই পারি। এ নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। পরে লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তিনি বলেন, যানবাহন চলাচল ঠিক এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল না, আরও কম সময় ছিল।

লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। বিষয়টি জানার পর আমি এসে মীমাংসা করে দিই। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পারভেজ চৌধুরী নামে ওই বাসের এক যাত্রী বলেন, সার্জেন্ট এক লোককে চট্টগ্রামে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাসে তুলে দেন। চালক তাতে রাজি না হলে সার্জেন্ট মাহমুদ রীতিমতো মাস্তানি শুরু করেন। সরকারি কর্মকর্তা পারভেজ বলেন, এত দুর্যোগ, এত সমালোচনা- এর পরও দেশের কিছু পুলিশ বদলায় না। সার্জেন্ট মাহমুদের কাজ ছিল দ্রুত বাস চলাচলের জন্য কাজ করা। অথচ তার কারণে ছুটির দিনে হাজার হাজার যাত্রীকে এক ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

advertisement
Evaly
advertisement