advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিকালে ভোট বর্জন বিএনপি প্রার্থীর : নওগাঁ-৬ উপনির্বাচন

নওগাঁ রানীনগর ও আত্রাই প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৫
advertisement

নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিকাল সাড়ে ৩টায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে ২৭ জুলাই নওগাঁ-৬ আসন শূন্য হয়। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন হেলাল, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির খন্দকার ইন্তেখাব আলম। গতকাল সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সকাল থেকে রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। বেশিরভাগ বুথে কোনো ভোটার নেই। মাঝেমধ্যে দু-একজন ভোটার আসছেন ও ভোট দিচ্ছেন।

দুপুর ১২টায় আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পর পর একজন-দুজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে ভোটার ২ হাজার ৩৭৮ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ২৮০টি, যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

ওই কেন্দ্রের বাইরে আব্দুর কাদের নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন। তিনি দাবি করেন, সকাল ৯টায় তিনি সহ আরও পাঁচজন ওই কেন্দ্রের বুথে (ভোটকক্ষে) গিয়ে বসেন। বুথে ঢোকার ১০-১২ মিনিট পর আওয়ামী প্রার্থীর লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বুথ থেকে বের করে দেন।

প্রিসাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, সকালে বিএনপির এজেন্টরা তালিকা দিয়ে ভোটকক্ষে বসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই চলে যান। তাদের বের করে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

বিকাল ৩টায় আত্রাই উপজেলার আহসনগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৬৫৮টি। ওই কেন্দ্রে ভোটার ৩ হাজার ৪৫৬ জন। এই হিসাবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোট পড়ে ১৯ শতাংশ।

বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রানীনগর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রের ভোটার শফিকুল ইসলাম, জুয়েল রানা, মোকাব্বেরসহ ছয়-সাতজন ভোটার জানান, তারা ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের ভেতর ঢুকতে চাইলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। এতে ভোট না দিয়েই তারা ফিরে আসেন।

বিকাল সাড়ে ৩টায় আত্রাই উপজেলা সদরে নিজের নির্বাচনী অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুই-তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। আজ (গতকাল) ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেন আওয়ামী প্রার্থীর লোকজন।

তিনি আরও বলেন, ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৯টার সময় ভোট শুরুর পর পরই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেন। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে বুথে প্রবেশ করলেও প্রতীক নির্বাচনের আগেই তাদের বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা সুইচ টিপে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেন।

রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

advertisement
Evaly
advertisement