advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঐতিহ্যের খোঁজ রাখেনি কেউ

করোনায় থমকে গেছে জামদানি উৎপাদন

গোলাম রাব্বানী
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০৯:২৯
রূপগঞ্জে একটি তাঁতঘরে জামদানি বুনছেন এক নারী। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সারাবিশ্বের অনন্য শিল্প হিসেবে জামদানির কদর থাকলেও করোনা মহামারীর সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা ও সাহায্য পায়নি এ শিল্পের কারিগররা। করোনার ফলে উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ কারিগর পেশা পরিবর্তন করেছে। ফলে বর্তমানে উৎপাদন কমে গিয়েছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। এদিকে তাঁতিদের বেশিরভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন না থাকায় সরকারের দেওয়া প্রণোদনাও পাননি। জাতিসংঘের ইউনেস্কো জামদানিকে একটি অনন্য সাধারণ নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল কালচারাল হ্যারিটেইজ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। করোনার আগে প্রতি সপ্তাহে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার জামদানি বিক্রি হতো। কিন্তু করোনাকালীন তা ১ হাজারের নিচে চলে আসে। বর্তমানে সপ্তাহে ২ হাজারের মতো জামদানি বুনন চলছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবর জামদানি পল্লীতে প্রায় ১ হাজার ২০০ তাঁতে বুননে আড়াই হাজার জামদানি শিল্পী কাজ করছেন। তেরছা, জলপাড়, পান্নাহাজার, করোলা, দুবলাজাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলাফুল, চন্দ্রপাড়সহ নানা নামের নান্দনিক নকশার জামদানি প্রস্তুত করছেন তারা। কিন্তু করোনার ফলে বর্তমানে নিয়মিত দেড় হাজার জামদানি শিল্পী কাজ করছেন। প্রায় ১ হাজার ভিন্ন পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে সুতা ও অন্যান্য জিনিসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় কারখানার শাড়ি অবাধে প্রবেশ করায় জামদানির দামও নিম্নমুখী। সুতা ও নকশাভেদে সর্বনিম্ন আড়াই হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকার মধ্যে জামদানি পাওয়া যায়। জামদানি বয়নে সাধারণত ৭০-৮০ কাউন্টের সুতা ব্যবহৃত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে নির্মিত প্রতিটি শাড়ির দাম রাখা হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা, আর চার দিনের মধ্যে তৈরি করে দেওয়া শাড়ির দাম রাখা হয় আড়াই হাজার টাকার মতো। শাড়ি তৈরির জন্য এর অর্ধেক মজুরি পান তারা, যা দিয়ে টিকে থাকাই দায় কারিগরদের।

তবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দামের শাড়িগুলো তৈরি করা হয় অর্ডারের ভিত্তিতে। প্রতি শুক্রবার জামদানির হাট বসে। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা সব ধরনের জামদানিই বিক্রি হয়ে থাকে তারাবরের এ হাটে।

জামদানি পল্লীর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, জামদানির ব্যবসা এখন আর আগের মতো নেই। ব্যাংকগুলো ঋণ দিলেও চড়া সুদের কারণে জামদানি ব্যবসায়ীদের কোনো আগ্রহ নেই। এ ছাড়া বিসিকের লোকজনের সঙ্গে লিয়াজোঁ না করলে ঋণ পাওয়াটাও কষ্টকর। জামদানি পল্লীর রাস্তার দূরবস্থার কারণে কোনো বিদেশি এবং বিখ্যাতরা এখন আর এ অঞ্চলে আসতে চান না। জামদানি পল্লীকে ঘিরে বিসিক কার্যক্রম চালালেও রাস্তা সংস্কার ও মেরামতে কোনো মাথাব্যথা নেই।

বাংলাদেশ জামদানি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, সবাই ঐতিহ্য সংস্কৃতির কথা বললেও করোনাকালীন আমাদের পাশে কেউ ছিল না। এখন দায়সারা হয়ে উৎপাদনে যেতে হচ্ছে। আমরা চাই মেশিনে তৈরি ভারতের শাড়িগুলো দেশে আসা বন্ধ হোক আর আমাদের শ্রমে তৈরি জামদানিগুলো বিদেশে রপ্তানি হোক। জামদানির পৃষ্ঠপোষকতায় সরকার এগিয়ে এলে এ শিল্প সমৃদ্ধির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

advertisement
Evaly
advertisement