advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে খুনকে গণপিটুনি বলে প্রচার

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৮ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ১১:২৩
প্রতীকী ছবি
advertisement

চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট এলাকার ভেড়া মার্কেটে বিরোধ মীমাংসার নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আবু তৈয়ব (৪২) ভেড়া মার্কেটের আকতার কলোনির ভাড়াটিয়া। তার বাড়ি কর্ইফুলী উপজেলার শিকলবাহা, বাবার নাম আহমদ মিয়া।পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। আকতার হোসেন নামের এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে শুক্রবার রাতে নতুন ফিশারিঘাট এলাকায় ভেড়া মার্কেটে এ খুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ আকতার হোসেনকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে। আকতার বকশিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি বলে জানিয়েছেন। ভেড়া মার্কেটে এ পদবিসহ নিয়মিত ব্যানার টাঙান বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর ছয়জন হলেন আকতারের কলোনির ম্যানেজার মো. সাইফুদ্দিন (৪০), আকতারের সহযোগী রায়হান উদ্দিন রানা (২৫), আশরাফুল ইসলাম (২৮), মো. সবুজ (৩৫), আবু তাহের কালু (২০) এবং আকতারের কলোনির ভাড়া সংগ্রহকারী হাসিনা বেগম (২৬)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা আকতার ও তার অনুসারীদের সঙ্গে নিহত তৈয়বের তিন ধরনের বিরোধের তথ্য পেয়েছি। তৈয়ব ফিশিং ট্রলারে শ্রমিক সরবরাহ করে। এ ছাড়া নদীর তীরে নির্মিত কাঠের ট্রলার নদীতে ভাসানোর সময় যে শ্রমিক প্রয়োজন হয়, সেগুলো সরবরাহেও তার একক আধিপত্য ছিল। এ দুই সেক্টরে শ্রমিক সরবরাহের কাজ তার থেকে বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল আকতার। কিন্তু তৈয়বের প্রভাবের কারণে ব্যর্থ হয়ে আয়ের ভাগ বা চাঁদা দাবি শুরু করে। তৈয়ব চাঁদা দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এ ছাড়া বেড়া মার্কেট এলাকায় তৈয়বের একটি দোকান আছে, সেখানে গিয়ে আকতারের ভাই মুন্না (পলাতক) প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেছিল। সেটাও তৈয়ব দেননি।

ওসি বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পারি নতুন ফিশারিঘাট এলাকায় ওয়ালটন শোরুমের সামনে তৈয়বকে আটকে আকতার বলেন, আবু তৈয়বকে মেরে ফেল। এর পর কোপানো শুরু হয়। লোহার রড, লোহার পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি কিরিচ-রামদা দিয়ে কোপানো হয়।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে আকতারসহ মোট ৯ জন এ হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ছিল। এর মধ্যে সাতজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। পরিকল্পিত হত্যার পর আকতারসহ আসামিরা এ ঘটনাকে গণপিটুনি বলে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে পুলিশকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

শুক্রবার রাতে যখন তৈয়বকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হচ্ছিল, সামনেই ছিলেন তার ছেলে শাহজাহান। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আব্বার কাছে চাঁদা চেয়েছিল। আব্বা যখন দেয়নি, তখন তার সঙ্গে আকতারের লোকজনের হাতাহাতি হয়। আকতার আমার আব্বাকে মীমাংসা করার জন্য ডেকেছিলেন। আব্বাকে দেখেই আকতার বলে ওঠে- ওকে একেবারে মেরে ফেল। তখন সবাই মিলে আমার আব্বাকে মারতে শুরু করে। কোপ খেয়ে আমার আব্বা দৌড় দিয়ে রাস্তায় চলে আসে। সেখানেও আকতার এবং তার সন্ত্রাসীরা এসে তাকে কোপাতে থাকে।

আবু তৈয়বের বাড়ি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিকলবাহায়। শ্রমিক সরবরাহের কাজ পরিচালনা এবং শ্রমিকদের রাখার জন্য তিনি আকতারের কলোনিতে একটি ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। আকতারের ম্যানেজার সাইফুদ্দিন শ্রমিক সরবরাহের অর্ধেক আয় দাবি করলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আকতারের ভাই মুন্না, সাইফুদ্দিন ও হাসিনার সঙ্গে তৈয়বের ধাক্কাধাক্কি হয়। তৈয়ব কলোনির মালিক হিসেবে আকতারকে নালিশ করেন।

advertisement
Evaly
advertisement