advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পূজায় তারকাদের আনন্দময় স্মৃতিকথা

ফয়সাল আহমেদ
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ২১:২৭
advertisement

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো তারকারাও মেতে ওঠেন এ উৎসবের আনন্দে। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে বিশেষ এ উৎসবের সময়টায় পরিবারের সদস্য ও কাছের মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন তারা। এবার করোনার কারণে প্রায় সবাই বাসায় বসেই উৎসব উদযাপন করবেন। লিখেছেন- ফয়সাল আহমেদ

কুমার বিশ্বজিৎ

ছোটবেলার পূজার অনেক স্মৃতিই মনে আছে। সেগুলো এখনো ভাবায়। দুর্গাপূজা এলে মা বিভিন্ন খাবার রান্না করতেন। বন্ধুরা মিলে বাসায় একসঙ্গে খেতাম। পূজায় অনেক স্মৃতি রয়েছে। তবে বিশেষভাবে একটি স্মৃতির কথা না বললেই নয়। আমি তখন খুব ছোট। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। মা-বাবার সঙ্গে প্রথম কলকাতায় গিয়েছিলাম দুর্গাপূজা করতে। কলকাতা বড় শহর, পূজায় কত মানুষ মিলিত হয়! মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে আকস্মিকভাবে আমি হারিয়ে যাই। পথ খুঁজে পাচ্ছি না! খুব ছোট ছিলাম, ভাবতে পারছিলাম না কী করব। এত মানুষের ভিড়ে মা-বাবাকে কীভাবে খুঁজে পাব? কান্না করছিলাম। ভাবতে ভাবতে পথ যেদিকে দেখি, সেদিকে হাঁটি। ম-প দেখলেই মা-বাবাকে খুঁজতে থাকি। এভাবে খুঁজতে খুঁজতেই এক সময় মা-বাবাকে পেয়ে গেলাম। পরে শুনেছি, তারাও আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন। এর পর থেকে পূজা উপলক্ষে দূরে কোথাও আর যাইনি।

বাপ্পা মজুমদার

আগে পরিবারের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতাম। কখনো নানাবাড়ি রাজশাহী, কখনো ভোলায় পূজা কাটত। রাজশাহীতে হলে অনেক মজা হতো। সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম। এলাকার প্রায় সব ম-পে যেতাম। সুন্দর প্রতিমা নির্বাচন করতাম। আরতি দিতাম। কেউ কিছু বলত না। অনেক খাওয়া-দাওয়া হতো। শৈশব-কৈশোরের সেসব দিন খুব মিস করি। এখন আর সেই মজাটা নেই। কোথাও গেলেই ক্রাউড হয়ে যায়। রাজশাহী কিংবা ভোলায় যেতে চাইলে আগেই খবর চাউর হয়ে যায়। বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়। দেবী দর্শন বাদ দিয়ে সবাই আমাকেই দর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেলফি তুলতে চায়। ম-পে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই নিজেকে আনন্দিত করার মতো ব্যক্তিগত সেই সুযোগটা আর পাই না। পূজা এলে অতীতের কথা খুব মনে পড়ে।

চঞ্চল চৌধুরী

এবার আর আগের অবস্থা নেই। সবাই করোনা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকে এখনো ঘর থেকে কাজ করার চেষ্টা করছেন। আগে পূজায় পাবনায় গ্রামের বাড়ি যেতাম। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করতাম। দশমী পার করে ঢাকায় ফিরতাম। এবার সব ঢাকাতেই করতে হবে। পূজা এলে আনন্দের পূর্বশর্ত হচ্ছে নতুন জামাকাপড় কেনা। নতুন জামা পরে ম-পে গিয়ে দুর্গা মায়ের সঙ্গে দেখা করা। শুটিংয়ের ব্যস্ততায় কেনাকাটা করা সম্ভব হয় না। এ কাজটা বরাবরই আমার অর্ধাঙ্গিনী করে থাকেন। নানা ব্যস্ততায় সময় পার হচ্ছে, ঢাকের তালে তালে আগের মতো আর প্রতিমা বিসর্জন দিতে নৌকায় ওঠা হয় না। এর পরও পূজার আনন্দে এতটুকু ছেদ পড়েনি।

বাপ্পী চৌধুরী

আমার কাছে পূজা মানেই নতুন কাপড় পরা। ছোটবেলায় মা-বাবা নতুন জামা কিনে দিতেন। খাওয়া-দাওয়াতেও ছিল নতুনত্ব। পূজার সময়টায় সবাই অন্যরকমভাবে কাটাতাম। বন্ধুরা মিলে ঘুরতাম। সন্ধ্যায় ম-পগুলোয় ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও ঢাকের তালে মাটির ধুপতি নিয়ে আরতিতে মেতে উঠতেন। পূজাকে কেন্দ্র করে বাড়ির পাশেই বসত মেলা। বাহারি আর লোভনীয় অনেক কিছুই সেখানে থাকত। এবার মনে হয় ঘরে বসেই সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। কারণ করোনা সবার জীবনই প্রায় তছনছ করে দিয়েছে। এখনো মানুষ আতঙ্কে আছে। তাই যতটুকু সম্ভব নিজেকে সুরক্ষিত রেখে আনন্দ করতে হবে।

দেবাশীষ বিশ্বাস

বরাবরই পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় পূজা উদযাপন করা হয়। এবার সপ্তমীর দিন গুলশান-বনানী, অষ্টমীর দিন নারায়ণগঞ্জ এবং নবমীর দিন পুরান ঢাকার সব পূজাম-পে যাব। ইতোমধ্যে পূজার সব কেনাকাটা হয়ে গেছে। পরিবারের সবাইকে পছন্দমতো পোশাক কিনে দিয়েছি। যদিও উপহার দেওয়ার চেয়ে পেতেই বেশি ভালো লাগে আমার! অন্যবারের মতো এবারও নিজ ধর্মের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধুদের সঙ্গে সময় পার করা হবে। প্রণামী দেবে ছোটদের আর বড়দের কাছ থেকে নেব। ছোটবেলার পূজার স্মৃতিগুলো এখনো মনে পড়ে। মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় এই ভেবে যে, শৈশবের সেই দিনগুলো কোথায় গেল? কেন ফিরে যেতে পারি না শৈশবে?

advertisement
Evaly
advertisement