advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পরশুরামে ভারতীয় সীমান্তে দুই ভাইয়ের লাশ

দামুড়হুদায় বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত

ফেনী ও দামুড়হুদা প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

ফেনীর পরশুরামে ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) পড়েছিল দুই ভাইয়ের লাশ। গতকাল রবিবার ভোরে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বজ্রপাতে তাদের মুত্যু হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা। গতকাল রবিবার দুপুরে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক শেষে এই দুই বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। নিহতরা হলেন- পৌর এলাকার গুথুমা গ্রামের খারিজকোনা এলাকার কালাধন সরকারের ছেলে মো. করিম (২৮) ও মো. স্বপন (২৪)।

বিজিবি-৪ ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুজ্জামান বলেন, পরশুরামের গুথুমা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ২১৬৭/১১ এস সংলগ্ন শূন্য রেখা বরাবর হিল্লা টিলায় দুই সহোদর খালে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। তাদের শরীরে বজ্রপাতে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

পরশুরাম পৌরসভার কাউন্সিলর রাসুল আহাম্মদ মজুমদার স্বপন জানান, ভোরে সীমান্তের ১৫-২০ ফুট ভেতরে মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ লাশগুলো তাদের ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে যায়।

ছাগলনাইয়া-পরশুরাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিশান চাকমা বলেন, রবিবার ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। লাশের এখন পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন হয়নি। তারা ভোরে মাছ শিকার করতে বেরিয়েছিলেন বলে জানা

গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারত সীমান্তবর্তী ওই স্থানে রবিবার ভোরে দুইজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন ৮ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর রাসুল আহাম্মদ মজুমদার স্বপন। তিনি জানান, লাশের পাশে একটা ছাতা ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলটি একেবারে সীমান্তবর্তী। কীভাবে মারা গেছে তা বুঝা যাচ্ছে না।

এ দিকে চুুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত ওমিদুল (১৯) উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম শহীদের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানান, রবিবার ভোরের দিকে বিজিবির একটি টহল দলের সদস্যরা চুুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৯ নম্বর মেইন খুঁটির কাছে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের টহল আরও জোরদার করেন। এরপর এদিন সকালে ওই সীমান্ত খুঁটির কাছে বিজিবি সদস্যরা ভারতের মালুয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ড্যান্টের গাড়িসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। তার কিছুক্ষণ পর বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তর থেকে মোবাইল ফোনে গুলিতে নিহত যুবকের ছবি তুলে সেটা বিজিবির কাছে পাঠান। বিজিবি ওই ছবি ঠাকুরপুর গ্রামবাসীদের দেখালে নিহত ওমিদুলের বাবা সেটা তার ছেলে বলে নিশ্চিত করেন।

ছবি বিজিবির কাছে পাঠিয়ে বিএসএফ সদস্যরা জানান, নিহত ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করে। ওই সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ মালুয়াপাড়া বরাবর প্রতিবাদপত্র ও পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওমিদুলের লাশ ফেরত পাওয়া যাবে বলে জানান মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।

advertisement
Evaly
advertisement