advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহজ হচ্ছে কর কাঠামো

আবু আলী
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মেরুকরণ, বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ। করোনা পরিস্থিতিতে চীন ও জাপান থেকে অনেক বিদেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ায় বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আইন, বিধিবিধান, করব্যবস্থা, ব্যাংকিং পদ্ধতি সহজ করেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে দেশগুলো সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো, নীতিগত সহায়তা, ব্যাংকিং নিয়মনীতি ও পদ্ধতিতে প্রযুক্তির ব্যবহারসহ ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। বিদেশিরা বিনিয়োগ করা অর্থের লভ্যাংশ সহজে নিজ দেশে বা অন্য কোনো স্থানে নিয়ে যেতে পারেন সে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) টানতে করপোরেট ট্যাক্সসহ অন্য কর কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের তত্ত্বাবধানে সুপারিশমালা তৈরি হচ্ছে।

আইআরডি সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে জাপানি ব্যবসায়ীরা চীন

থেকে ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ টানতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিদ্যমান কর কাঠামো, অর্থ স্থানান্তরসহ বেশ কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

চীন থেকে এফডিআই স্থানান্তরিত করার ঘোষণার পর বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয়ে একটি সুপারিশ তৈরি করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর ট্যাক্স সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশের জন্য আয়কর নীতি, শুল্ক নীতি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নীতি নিয়ে কাজ করেছেন। এনবিআরের এমন সদস্যদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে শুল্কনীতি সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, ভ্যাট পলিসির সদস্য মাসুদ সাদিক ও শুল্ক নীতিমালার দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, জাপানিদের কাছে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আপাতত জাপানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকারও। দেশটির বিনিয়োগ ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানি বা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথাও ভাবছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এজন্য সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে টেলিসংলাপও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে জাপানি উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও বিনিয়োগকারীরা আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ চায়।

জানা গেছে, উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ানোসহ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ ও সর্বশেষ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে ভূরাজনীতিতে চাপে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। চীনের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগের পথ খুঁজতে শুরু করেছে জাপানের কোম্পানিগুলো। তাদের কাছে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা ও সস্তা শ্রম- এ চার কারণে জাপানি বিনিয়োগকে হাতছানি দিচ্ছে। রপ্তানিমুখী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক বাড়ানোর পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা সমাধানে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জাতীয় বৈষম্য দূর করা না হলে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত হবে না বলেও মনে করেন তারা।

জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অধিক সম্ভাবনা ও লাভের কারণে আগামী দুই বছরে জাপানি কোম্পানিগুলো এশিয়া ও ওশেনিয়ায় তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাইছে। বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে থাকবে। বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রায় ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ কোম্পানি একই অবস্থায় থাকবে। মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ কোম্পানি ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ কমানোর বিবেচনা করছে বলে জেট্রোর সমীক্ষায় বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮৭টি জাপানি কোম্পানি তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চীন থেকে স্থানান্তরিত করার বিষয়ে বিবেচনা করছে। জাপান সরকার এগুলোকে বাংলাদেশ বা ভারতে স্থানান্তরিত করলে তাদের ২২ দশমিক ১০ কোটি ডলার ভর্তুকি দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, আশা জাগাচ্ছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশে জাপানিদের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, যার ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এটি উন্নয়ন করছে জাপানের সুমিতমো করপোরেশন। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ২০২১ সালে কারখানা করার উপযোগী হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সহায়তায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এক দরজায় সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিসও চালু করেছে বেজা।

advertisement
Evaly
advertisement