advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুন্সীগঞ্জের হিমাগারে পর্যাপ্ত আলুর মজুদ

নাদিম হোসাইন, মুন্সীগঞ্জ
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

বাজারে আলুর দাম ক্রমেই বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পাইকারি, খুচরা ও কোল্ডস্টোরেজ স্তরে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু তবু বাজারে আলুর দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কানাঘোষা রয়েছে- কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটই আলুর দাম বাড়াচ্ছে। কারণ উত্তোলনের শুরুতে জমি থেকে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনে নেন পাইকাররা। এর পর সেই আলু তারা সংরক্ষণ করেন কোল্ডস্টোরেজে। আর সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী জোগান নিয়ন্ত্রণ করছে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী। তাদের কারসাজিতেই খুচরা বাজারে অল্প জোগান

দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বাঙালির রান্নায় নিত্য ব্যবহার্য কন্দজাতীয় এ খাবারটির।

বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় মুন্সীগঞ্জে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্র বলছে, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলার ৬৫ কোল্ডস্টোরেজে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। তা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে আলুর দাম বেড়েই চলেছে। এদিকে প্রশাসন সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে সবাইকে চাপও দিচ্ছে। কিন্তু তবু নিয়ন্ত্রণে আসেনি বাজার। গতকাল রবিবারও জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে আলুর দাম ছিল ৪৫ টাকাতেই বাধা। এমনকি চার-পাঁচ দিন আগে খুচরা প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকাতেও। অথচ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার খুচরায় প্রতিকেজি আলুর দাম ৩০ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও হিমাগারে ২৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জে এবার সাড়ে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭ টন আলু, যা গত বছরের চেয়ে বেশি। জেলায় বর্তমানে ৬৫টি সচল হিমাগারের ধারণক্ষমতা সাড়ে ৫ লাখ টন। হিমাঘারগুলোতে এখনো মজুদ আছে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন আলু।

মুন্সীগঞ্জ শহর বাজারের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ৩-৪ দিন আগে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে আলু কেনা হয়েছে স্থানীয় হিমাগার থেকে। এখন সরকারি নির্দেশ মেনে সেই আলু ৩০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি করলে ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়েই প্রতিকেজি আলু ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। মোবাইল কোর্টের ভয় আছে; কিন্তু অবশিষ্ট আলু বিক্রি করার পর আর বিক্রি করব না বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাজারের আরেক বিক্রেতা জানান, তিনিও ৪-৫ দিন আগে বেশি দাম দিয়ে হিমাগার থেকে আলু কিনেছেন। ফলে খুচরা বিক্রিতে তিনি সরকারি নির্দেশনা মানতে পারছেন না। এ নির্দেশনা মানলে কেজিপ্রতি তার ১০-১২ টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়ে যাবে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে মজুদকৃত আলু স্বাভাবিকভাবে বাজারজাত করতে তাগিদ দিচ্ছে প্রশাসন। করোনাকালে ত্রাণের জন্য ২০-২৫ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়েছে। এবার তাদের ২০৫০ থেকে ২২০০ টাকায় প্রতিবস্তা আলু কিনতে হয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে প্রতিবস্তা আলু ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করতে বলা হচ্ছে। হিমাগারের আলু দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারজাত করা সম্ভব নয়। কেননা ইতোমধ্যে সপ্তাহে তিন দিন বিক্রি করা হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীরা হিমাগারের আলুর দাম প্রতিকেজি ৩০ টাকা বিক্রি ও মজুদকৃত বস্তা লাভ দিয়ে সরকারকে কিনে নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে এলাইড হিমাগারের ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, প্রতিকেজি ২৩ টাকা দরে আলু বাজারজাত করতে তাগাদা দিচ্ছে প্রশাসন। হিমাগার কর্তৃপক্ষ এসব আলুর মালিক নয়। মজুদকৃত আলুর অর্ধেক আছে বীজ আলু। তবে গতবারের তুলনায় এবার আলুর উৎপাদন কম। এর জন্য গতবারের তুলনায় এবার অর্ধেক আলু রাখা আছে। কয়েক দফা হাত ঘুরে আলু বিক্রি হওয়ায় দাম বেশি হচ্ছে। যারা আলু রেখেছেন, তাদের সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের নির্দেশনা। তারা অল্প সময়ের মধ্যে আলু বাজারজাত করবে বলে জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, জেলায় যে ৬৫টি হিমাগার রয়েছে, সেগুলোতে এখনো মজুদ আছে এক লাখ ৭৭ হাজার টন আলু। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম। আর এটিকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটই আলুর দাম বাড়াচ্ছে। আমাদের আলুতে কোনো ঘাটতি ছিল না। অন্যান্য সবজির দাম বিধায় এ সুযোগটি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, জেলায় এ বছর আলুর অত্যন্ত ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরাও বিগত বছরগুলো থেকে এবার আলুতে লাভবান হয়েছেন। তাই সাম্প্রতিক সময়ে আলুর দাম বাড়ার তেমন কোনো কারণ দেখছি না। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, বিশেষ করে কোল্ডস্টোরেজের মালিক ও ব্যবসায়ী যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারও আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে বিষয়টি তদারকির জন্য কাজ হচ্ছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে আলুর দাম বাড়াবে বা সরকাররের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement