advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

২৫ টাকা দরে বিক্রি করবে টিসিবি
আলু বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই

রেজাউল রেজা
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:২৪
advertisement

সরকার প্রতিকেজি আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজে ২৩ টাকা, আড়তে ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে বিক্রমপুরের আলু প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। অপরদিকে রাজশাহী ও মুন্সীগজ্ঞের আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে। আবার বড় বাজারগুলোর তুলনায় ছোট বাজার ও মুদি দোকানগুলোয় খুচরাতে ২ থেকে ৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আলু।

বাড়তি দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. বিলাল হোসেন বলেন, সরকার তো দাম বেঁধে দিয়েছে ঠিক, কিন্তু আমরা পাইকারিতে বেশি দামে আলু কিনেছি। এখন বেশি দামে কিনে তো আর লোকসান দিয়ে কম দামে বেচতে পারি না। গতকাল সকালে কারওয়ানবাজারের আড়ত থেকে মুন্সীগঞ্জের এক বস্তা (৫০ কেজি) আলু কিনেছি ২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম পড়েছে ৪০ টাকা। তাই বেঁধে দেওয়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে ১০ টাকা লোকসান দিতে হবে। আরেক খুচরা বিক্রেতা মো. মালেক জানান, তিনিও বাড়তি দামে আড়ত থেকে আলু কিনেছেন। তিনি জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা বিক্রমপুরের আলু কিনতে হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকায়। এতে প্রতিকেজির দাম পরেছে ৩৬ টাকা। এ আলু তিনি খুচরায় ৪০ টাকা কেজি দরে এবং প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছেন ২০০ টাকা দরে।

কারওয়ানবাজারের আলুর পাইকার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, গতকাল এখানকার পাইকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজশাহী ও বগুড়ার সাদা আলু ৩৭ থেকে ৩৯ টাকা ও লাল আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিকেজি বিক্রমপুরের আলু বিক্রি হয়েছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। আরেক পাইকার মো. মজিবর রহমান বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা তো দূরে থাক অনেক জেলায় তো কোল্ড স্টোরেজগুলো আলু বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তাই পাইকাররা কম দামে আলু পাচ্ছেন না। আলু থাকার পরও কোল্ড স্টোরেজগুলো আলু ছাড়ছে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষিবাজারে অভিযান চালিয়ে আলুর বেশি দাম নেওয়ায় দুটি পাইকারি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত শুক্রবারেও রাজধানীর শ্যামবাজারে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে গত বুধবারেও শাহ আলী বাজারে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদপুর কৃষিবাজারে ২ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় কোল্ড স্টোরেজগুলোতেও তদারকি অভিযান চলছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, কেবল দাম নির্ধারণ করে দিলেই হবে না। নির্ধারিত দাম সব পর্যায়ে মানা হচ্ছে কিনা সেটা যাচাইয়ে তদারকিও বাড়াতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি অভিযান অবশ্যই জরুরি। কিন্তু অবস্থা কিছুটা এমন যে, একদিকে অভিযান চলে অন্যদিকে অভিযান শেষে আবার দাম বেড়ে যায়। এ রকম দায়সারা অভিযান আর হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোল্ড স্টোরেজ মালিক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে টিসিবি ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি চালু করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে বাজারে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় আলুর মজুদ রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অধিক লাভ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

advertisement
Evaly
advertisement