advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘরে বসেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

মহামারী করোনা ভাইরাসে স্কুল বন্ধের এই সময়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় করোনা থেকে বাঁচতে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, এটা যে কোনো শিশুর জন্য কষ্টকর। হয়তো এসব অবস্থা থাকবে না। আমি তাদের বলব, ঘরে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে। যখন স্কুল খুলবে তখন তারা আবার সব কিছু করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের জন্য কাজ করবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। নিজেদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

ঘাতকের হাতে নিহত সর্বকনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুলেটের আঘাতে একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট

ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। ভয়াল সেই রাতে জাতির পিতার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে প্রায় ১১ বছর বয়সী শেখ রাসেলকেও প্রাণ দিতে হয়েছিল।

শেখ রাসেলের জন্মের ক্ষণটি ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর সেই মুহূর্তগুলো স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, একটা ছোট্ট শিশু আসবে আমাদের পরিবারে। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা- সবাই খুব, খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম যে কখন সেই শিশুর কান্নাটা আমরা শুনব, কখন তার আওয়াজটা পাব, কখন তাকে কোলে তুলে নেব। সেই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যস্ততার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ওই মুহূর্তে চট্টগ্রামে ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা টেলিফোন কল করে আব্বাকে জানালাম।

ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভক্তি ও তার সম্পর্কে জেনে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এই দার্শনিকের নামে তাদের ছোট ছেলের নাম রাখেন বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট্ট শিশুটি আমাদের চোখের মণি ছিল। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য তার, ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবরে তার জন্ম। এর পর ১৯৬৬ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমার বাবা ছয় দফা দিলেন, তিনি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ওই ’৬৬ সালেই তিনি মে মাসে বন্দি হয়ে গেলেন। ছোট্ট রাসেল তার কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে। প্রকৃতপক্ষে তার সাক্ষাৎ হলো কারাগারেই। তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গেলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাসেল কান্নাকাটি করত। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন বাবা মুক্তি পান তখন যেই জিনিসটা সব সময় দেখতাম রাসেল সর্বক্ষণ, মনে হয় ওর ভেতরে একটা ভয় ছিল যে কোনো মুহূর্তে বুঝি বাবাকে হারাবে। তাই তিনি যেখানেই যেতেন যেই কাজই করতেন খেলার ছলে ছলে কিছুক্ষণ পর পরই একবার করে সে দেখে আসত যে বাবা ঠিক আছে তো।

রাসেলের সৈনিক হওয়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তার বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমরা গ্রামে বেড়াতে যেতাম, গ্রামের যত শিশু তার বয়সী সবাইকে সে একত্রিত করত এবং তাদের দিয়ে সে প্যারেড করাত। আর শুধু প্যারেড করিয়ে খালি হাতে ফেরাত না। প্রত্যেকে যারা প্যারেড করত তাদের সে টাকা দিত আর তাদের কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হতো। সেজন্য মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শিশুদের অনেক কাপড়-চোপড় কিনে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় যেতেন এবং সেগুলো রাসেলের ইচ্ছামতো প্রত্যেকটা শিশুকে দেওয়া হতো বলে জানান শেখ হাসিনা।

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহিদ শেখ রাসেলে ‘ম্যুরাল’ নির্মাণ করে শেখ রাসেলের স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করায় সবাইকে ধন্যবাদও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই। ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এইটুকুই শিখবে, এইটুকুই জানবে যে একটা ছোট শিশু ছিল এই স্কুলে কিন্তু সেই শিশুটাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেসব কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন সেগুলো হলো- শহীদ শেখ রাসেল- এনিমেটেড ডকুমেন্টরি ‘বুবুর দেশ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা’র মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন ও ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিওচিত্র অবলোকন, ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্য কার্যক্রম।

ওই সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স প্রান্ত থেকে ৮ বছরের নীলকাব্য শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখে।

ভিডিও কনফারেন্সে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশুকিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, সংগঠনটির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
Evaly
advertisement