advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আবরার হত্যা মামলা
কর্মঘণ্টার পর সাক্ষ্য নিতে চাওয়ায় আইনজীবীদের আদালত বর্জন

আদালত প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৩৭ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২১:২৯
প্রতীকী ছবি
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আদালতের কর্মঘণ্টার পরও সাক্ষ্য নিতে চাওয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেছেন। আজ বুধবার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণকালে এ ঘটনা ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১২টার পর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে মঙ্গলবার আংশিক সাক্ষ্য দেওয়া শেরেবাংলা হলের সিনিয়র সুপারভাইজার মতিউর রহমানকে জেরা শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফার সাক্ষ্য দেন। মাঝে একঘণ্টা বিরতি দিয়ে গোলাম মোস্তফার সাক্ষ্য শেষ হয় বিকেল ৫টার দিকে। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটোসহ কয়েকজন আইনজীবী আজ বুধবারের মতো কার্যক্রম মূলতরি রাখার আবেদন করেন। তারা বলেন, আমরা ক্লান্ত আর আদালতে অনেক গরম। আদালতের কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে গেছে। দয়া করে আজকের মতো কার্যক্রম মূলতবি করেন। তখন বিচারক বলেন, না হবে না। সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে। আইনজীবীরা বলেন, তাহলে সাক্ষী এএসআই রবিউল আলমের জবানবন্দি নেন। আমরা কাল জেরা করব। ৫টা ১০ মিনিটে রবিউল আলমের জবানবন্দি শেষ হয়। এরপর বিচারক আইনজীবীদের বলেন, জেরা শুরু করেন। তখন আইনজীবীরা বলেন, আজ থাক আমরা কাল করব। তখন বিচারক বলেন, না আজই শেষ করেন। তখন আইনজীবীরা বলেন, তাহলে আপনি করেন, আমরা চলে যাই। এ কথা বলে ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্নার আইনজীবী ব্যতীত অন্যান্য আসামিদের আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন। মুন্নার আইনজীবী রবিউল আলমকে জেরা শেষ করেন।

এরপর বিচারক মুন্না ব্যতীত ২১ আসামির কাছে জানতে চান, তারা জেরা করবে কি না? তখন তারা মুন্নার জেরাকে ডিকলাইন করেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

এ নিয়ে মামলাটিতে ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহসহ ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। মামলাটিতে ৫ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটি ব্যতীত চলছে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠনের আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে আছেন। তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তিনজন পলাতক রয়েছে। আর ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় আবরার ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আবরার বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

advertisement
Evaly
advertisement