advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে ফেরামাত্রই পিকে হালদারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৯
advertisement

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচার করার ঘটনায় পালিয়ে কানাডায় অবস্থানরত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিনি যাতে ‘নিরাপদে’ দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ প্রধান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিকে হালদারের জীবনের নিরাপত্তায় আদালতের হেফাজত চেয়ে আইএলএফএসএলের পক্ষে করা আবেদন গ্রহণ করে গতকাল বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশে বিচারক বলেন, ‘পিকে হালদার যদি দেশে আসেন, তা হলে এ কোম্পানি মেটারটা নিষ্পত্তি করা যাবে। সেটা নিষ্পত্তি করার জন্য এ কোর্ট দেখতে চায় যে, তিনি বিমানযোগে দেশে পা ফেলামাত্র তাকে যেন অ্যারেস্ট করা হয় এবং জেলে নেওয়া হয়। তাকে যেন বাইরে যেতে না দেওয়া হয়। এ কাজটা যদি করা হয়, তা হলে তার আবেদন অনুযায়ী তিনি যে মনে করছেন,

তাকে কিডন্যাপ করা হবে, তা আর হবে না।’ আদালত বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কোম্পানির বিভিন্ন বৈঠকে থাকতে পারবেন পিকে হালদার। ডেসটিনির মামলায় এ বিষয়ে আপিল বিভাগের একটি নির্দেশনা আছে। প্রয়োজনে কারাগারে তার চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। আইএলএফএসএলের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। আর দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মো. খুরশীদ আলম খান।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে একটি আবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। ওই আবেদনে বলা হয়, দেশে ফিরে পিকে হালদার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিনিয়োগকারীদের যে টাকা নিয়ে গেছেন তা উদ্ধার করে তিনি ফেরত দিতে চান। এ জন্য দুদক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে থাকতে চান আদালতের কাস্টডিতে। পিকে হালদারের জীবনের নিরাপত্তায় আদালতের হেফাজত চেয়ে হাইকোর্টে ওই আবেদন করে আইএলএফএসএল।

সেদিন হাইকোর্ট বলেছিলেন, পিকে হালদার কবে, কখন, কোন ফ্লাইটে দেশে ফিরতে চান, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও দুদকসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। শুনানিতে বিচারক এও বলেছিলেন, আত্মসাৎকারীরা টাকা ফেরত দিতে চাইলে সে সুযোগ যেমন থাকা দরকার, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাও প্রয়োজন। সে অনুযায়ী গত মঙ্গলবার আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে করা আবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসার জন্য তিনি টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ওই ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার কথা রয়েছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পিকে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে লোপাট করেছেন অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। প্রশান্ত কুমার হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ওইসব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছেন পিকে হালদার। নিজেও পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে মামলা করার আগেই লাপাত্তা হন পিকে হালদার।

এর পর আইএলএফএসএলের সাতজন ডিপোজিটর টাকা ফেরত চেয়ে না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে। পরে শুনানি শেষে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট পিকে হালদারসহ তার কোম্পানির ২০ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সম্পদ ও পাসপোর্ট জব্দের আদেশ দেন। এ ছাড়া কোম্পানিটির সব ডাইরেক্টর, নোমিনি ডাইরেক্টর ও ইনডিপেনডেন্ট ডাইরেক্টরদের ট্যাক্স ফাইল ও কোম্পানিটির বোর্ড মিটিংয়ের নথিপত্র দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আইএলএফএসএলের দুই পরিচালক। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশই বহাল রাখেন। এর পর হাইকোর্টের আগের আদেশের ধারাবাহিকতায় গতকাল ওই আদেশ হয়।

advertisement
Evaly
advertisement