advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ফাঁড়িতে রায়হান হত্যা
আকবরকে পালাতে সহায়তা করে এসআই হাসান সাসপেন্ড

সিলেট ব্যুরো
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৯
advertisement

সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন চালিয়ে যুবক হত্যার ঘটনায় আরও এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তথ্য গোপন এবং মূল অভিযুক্ত ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে দ্বিতীয় ইনচার্জ মো. হাসান উদ্দিনকে। সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গত ১১ অক্টোবর রাতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ নামে এক যুবক। পরদিন সকালে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার হত্যাকা-কে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ নিয়ে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে তদন্তে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা উঠে আসে। নিহত রায়হান সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে

এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের

আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী।

মামলার পর মহানগর পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটুচন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ে মোট আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার পুলিশ কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। তবে মূল অভিযুক্ত বন্দরবাজার থানার ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া এখনো পলাতক। তার পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার হাত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) মোহাম্মদ আয়ুবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কমিটির প্রধান এআইজি মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, ‘এসআই আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আর কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। রায়হানের বাড়িতে এসে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

বিক্ষোভ অব্যাহত, আলটিমেটাম শেষে পরিবারের নতুন কর্মসূচি :

রায়হান আহমদকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল তার পরিবার। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হলেও প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একমাত্র পুলিশ কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ছাড়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আর কোনো গ্রেপ্তারও নেই। ফলে লাগাতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রায়হানের পরিবার। তারা জানান, বৃহস্পতিবার পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পরদিন শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে রায়হানের জন্য দোয়া মাহফিল ও শনিবার বিকাল ৪টায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এদিকে হত্যাকা-ের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে ও বিচারের দাবিতে বুধবার দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সিলেটের কর্মীরা। বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গান ও কবিতার মাধ্যমে এ হত্যাকা-ের বিচার দাবি করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শুধু এক-দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এত অন্যায় থামানো যাবে না। বিচারহীনতার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। তারা রায়হান হত্যার মূল হোতা বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবরসহ অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

advertisement
Evaly
advertisement