advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নৌযান ধর্মঘটে দিনে ক্ষতি ২৫ কোটি টাকা

মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২২:৩৯
advertisement

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে বিভিন্ন দেশ থেকে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আসা ৫৪টি বড় জাহাজ অলস বসে আছে। কর্ণফুলী নদী ও বিভিন্ন ঘাটে বসে আছে এসব পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫ হাজার লাইটারেজ জাহাজ। নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় জাহাজ মালিকদের দৈনিক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। বেড়ে যাবে আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ও। সব মিলিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বেতন-ভাতার সমন্বয়সহ ১১ দফা দাবিতে গত সোমবার রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন। এতে সারাদেশে পণ্য পরিবহনকারী ১০ হাজার নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস ও মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা প্রদান, বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, ২০১৬ সালের গেজেট অনুসারে বেতন দেওয়া, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা করা। সংকট নিরসনে মঙ্গলবার রাতে মালিক-শ্রমিক বৈঠক হলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ধর্মঘটও প্রত্যাহার করেননি আন্দোলনরত শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম বন্দরে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় আবারও বৈঠক হওয়ার কথা

রয়েছে।

বিদেশি জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এবং লাইটার জাহাজের মালিকরা জানান, মাদার ভেসেল অতিরিক্ত একদিন বসে থাকলে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ডেমারেজ দিতে হয়। অন্যদিকে প্রতিটি লাইটার জাহাজের খরচ ২৫ হাজার টাকা। ধর্মঘটের কারণে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৫৪টি মাদার ভেসেল এবং পাঁচ হাজার পণ্যবাহী লাইটার জাহাজ অলস বসে ছিল। এসব জাহাজের অতিরিক্ত খরচ দৈনিক প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

জাহাজ মালিকরা বলছেন, করোনা সংকটের কারণে এমনিতেই নানাভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন তারা। অনেক মালিক ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। আমদানি কমার কারণে ট্রিপও কমেছে। এ অবস্থায় ভাতা বাড়াতে গেলে জাহাজ পরিচালনা সম্ভব হবে না। তাই মালিকদের পক্ষে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ানো অসম্ভব। তা ছাড়া শ্রমিকরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারত। কিন্তু তারা কাজ বন্ধ করে এক ধরনের জিম্মি করেছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশি জাহাজ একদিন অলস বসে থাকলে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার বাড়তি খরচ হয়। এতে কেবল বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় নয়, মেরিটাইম বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছে। তাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত।’ বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার লাইটার জাহাজ অলস বসে আছে। মঙ্গলবার রাতে আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ পরিচালনা করতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে। প্রতি মাসে যে ভাড়া পাই তা দিয়ে খরচ মিটানো কষ্টসাধ্য। এর পরও শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে।’

জানা গেছে, বিদেশ থেকে গম, চিনি, ভুট্টা, ছোলা, ডাল, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাথর, কয়লা, ভোজ্যতেলসহ খোলাপণ্য বড় কার্গো জাহাজে আমদানি করা হয়। তবে কর্ণফুলী নদীর গভীরতা কম হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে বড় জাহাজ ভিড়তে পারে না। তাই বহির্নোঙরে অবস্থান করে ছোট ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করে নদীপথে বিভিন্ন নদীবন্দর ও শিল্প কারখানার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল না করায় শিল্পকারখানার কাঁচামাল এবং বাল্কে আনা ভোগ্যপণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, গম, স্ক্র্যাপ, রড, সয়াবিন, ভুট্টা ও পাথর নিয়ে কর্ণফুলী নদীর আশপাশের বিভিন্ন ঘাটে ১ লাখ ১৯ হাজার ২০৮ মেট্রিন টন পণ্য নিয়ে ৮২টি লাইটার জাহাজ বসে আছে। গম, কাদামাটি, ইউরিয়া, কয়লা ও ভুট্টা নিয়ে নোয়াপাড়া ঘাটে ৬৫; ইউরিয়া ও গম নিয়ে নগরবাড়ী ঘাটে ৩২; গম, কাদামাটি, ডাল, এইচআর কয়েল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ঘাটে ১১৭; পাথর, কয়লা, গম নিয়ে মিরপুর ঘাটে ৫৮; গম-ভুট্টা নিয়ে পূর্বগ্রামে ৫৯টি লাইটারসহ মোট ৩৮টি ঘাটে আটকা পড়েছে ১১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন পণ্য। গতকাল সিরিয়ালের অপেক্ষায় থাকা ৩৭৬টিসহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে থাকা প্রায় ২ হাজার লাইটার অলস বসে আছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক আছে। তবে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। সমস্যা নিরসনে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement