advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আ.লীগ কাজ করছে

মুহম্মদ আকবর
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২৩:০৩
advertisement

ঢাকা-১৮ আসন উপনির্বাচন সামনে রেখে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। গত তিনটি উপনির্বাচনের ব্যর্থতা-সফলতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে দলটি। পাবনা-৪, নওগাঁ-৬, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১০ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিরাট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দলের ভোটাররাও কেন্দ্রে যাচ্ছেন না- এমন আলোচনা রয়েছে দল ও দলের বাইরে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে ঢাকা-১৮ আসনে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। গত চারটি উপনির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে ভোটার চার লাখ ৭১ হাজার ৭১ জন।

আর ভোট পড়েছে মাত্র ৪৯ হাজার ১৪১টি। যা মোট ভোটের ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অথচ শুধু রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৩৩ শতাংশের একটি ভোটব্যাংক রয়েছে আওয়ামী লীগের। নওগাঁ-৬ আসন উপনির্বাচনেও ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থীসহ সবাই ভোট পেয়েছেন ৩০.৪৯ শতাংশ। এ আসনে ভোটার তিন লাখ ছয় হাজার ৭২৫ জন। এরই মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল এক লাখ পাঁচ হাজার ৫২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়ে মাত্র ৫ শতাংশ।

গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে গড়ে ভোট পড়েছিল ৮০ শতাংশ। বর্তমানে ভোট কমে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তিনজন নেতা আমাদের সময়কে বলেন, চারটি উপনির্বাচনে যে ভোটার এসেছে তাতে মনে হয়েছে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটারও আসেননি। দলের নির্দেশনা থাকার পরও কেন দলের কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে থাকছে না এ বিষয়টি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

তারা বলছেন, করোনা মহামারী তো আছেই। পাশাপাশি যারা এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল তারা দলের প্রার্থীর বাইরে কাজ করছে কিনা তাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। গত নির্বাচনগুলোতে মাঠে-ময়দানে নেতাকর্মীদের দেখা গেলে আড়ালে আবডালে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে এমন অভিযোগও আছে বলে জানান এ নেতারা।

দলের আরেক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থীর মধ্যেও অহমিকা দেখা যায়। সারাদেশের বিগত নির্বাচনী ট্রেন্ডের বিষয়টি মাথায় রেখে নিশ্চিত বিজয়ী হয়ে যাবেন এমন চিন্তায় মগ্ন থাকেন দলীয় প্রার্থী। ফলে দলের অন্য নেতাকর্মীদের গুরুত্ব কম দেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। তাই নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের চাপে নির্বাচনী মাঠে থাকলেও বাস্তবে অভিমান নিয়ে কেন্দ্র বিমুখ থেকেছেন।

জানতে চাইলে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ভোটারের উপস্থিতি কম কেন তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিরাজমান বৈশ্বিক মহামারীর ক্রান্তিকাল কেটে গেলেই হয়তো ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাবে।

নৌকার প্রার্থীর ব্যস্ততা

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব হাসান। গত তিনটি উপনির্বাচনের তুলনায় ঢাকা-১৮ আসনে বেশি সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি ঘটানোর জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করছেন তিনি। জানতে চাইলে হাবিব হাসান বলেন, আমি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে আছি। ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের মানুষ নানা শঙ্কার মধ্য দিয়ে জীবন পার করছেন। তবুও ঢাকা-১৮ আসনের মানুষের মধ্যে নির্বাচনী উচ্ছ্বাস দেখছি। আশা করছি আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে।

তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীরা এদিক সেদিক নানারকম মন্তব্য করছেন। শুনেছি বিএনপি প্রার্থী নাকি নির্বাচনী প্রচার কাজ স্বাচ্ছন্দ্যে করার জন্য আমার সহায়তা চেয়েছেন। বাস্তবে আমার কাছে কেউ এ রকম বার্তা দেয়নি। নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য আমার পক্ষ থেকে যা করণীয় তা করতে কার্পণ্য করব না। তবে বিএনপি তো এ আসনের প্রার্থী নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তাদের কোন্দল অব্যাহত আছে। সেই কোন্দল তো আর আমি ঠেকাতে পারব না।

১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুটি আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। গত ১০ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাহারা খাতুন মারা যাওয়ায় ঢাকা-১৮ আসন শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

advertisement
Evaly
advertisement