advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঘরেও লড়তে হবে বিএনপির প্রার্থীকে

নজরুল ইসলাম
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২০ ১২:০৮
advertisement

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই নয়, নিজ দলের একটি অংশের বাধাও মোকাবিলা করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই ঘরে-বাইরে এ বাধার সম্মুখীন হতে হবে ধানের শীষের প্রার্থীকে।

দলটির নেতারা জানান, দলটির ইতিহাসে যা ঘটেনি- মহাসচিবের বাসায় হামলা, তা-ও এ নির্বাচন কেন্দ্র করে ঘটেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীরের বাসায় ডিম ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারার ঘটনায় বহিষ্কৃত ১৭ নেতাকর্মী ঘোষণা দিয়েছেন, ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীর প্রচার শুরুর দিন থেকে কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচি করবেন তারা। যেখানেই জাহাঙ্গীর বা তার সমর্থকরা প্রচার চালাবেন, সেখানেই তারা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করবেন। এ জন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার দলের হাইকমান্ডকে বহন করতে হবে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের পেছনে মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থন রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুগ্ম সম্পাদক কফিল উদ্দিন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আত্মীয় ব্যবসায়ী বাহাউদ্দিন সাদীর। যদিও মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই ভোটে বিএনপি যে জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, তা দলটির ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমানউল্লাহ আমানের কথাতেও ফুটে উঠেছে। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন আমাদের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। সরকার এ নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

জাহাঙ্গীরকে ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় হামলার ঘটনায় বহিষ্কার হন উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মতি। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের দিন জাহাঙ্গীরের নির্দেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তার বিচার না করে আবার সেই জাহাঙ্গীরকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর বরাবরই ওই দিনের মারামারির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছেন। ওই ঘটনায় গঠিত খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিও জাহাঙ্গীরের সংশ্লিষ্টতা পায়নি।

গুলশানের ঘটনায় বিচার না পেয়ে মহাসচিবের বাসায় ডিম মারেন আহত নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় জড়িত না থাকলেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেন মতি। তিনি বলেন, আমরা বৃহত্তর উত্তরার নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানেই জাহাঙ্গীর সেখানেই কালো পতাকা প্রদর্শন করব। আমাদের সঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত প্রার্থীর সবাই আছেন।

মহাসচিবের বাসায় ডিম মারার পর সম্প্রতি দলের প্রভাবশালী এক নেতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, সব ঘটনা শোনার পর দলের মহাসচিবের বাসায় ডিম মারার ঘটনা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ ঘটনায় যেন আর কাউকে বহিষ্কার করা না হয়। এর পর বহিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার শুরু হলে ঢাকা-১৮ আসনে সংঘাত-সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে- এমন শঙ্কা থেকে নির্বাচন পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা জানান, ৩৭ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৫ জনই ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোনো উপনির্বাচনে এমন শক্তিশালী কোনো কমিটি হয়নি। এ কারণেও মনোনয়নবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ।

ক্ষুব্ধরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদেরও প্রতিহত করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। যদিও এসএম জাহাঙ্গীর নির্বাচনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে চান বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, গত মঙ্গলবার মহাসচিবের বাসার সামনে মশাল মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারেক রহমানের এক বন্ধুর হস্তক্ষেপে তা আর শেষ পর্যন্ত হয়নি।

জানা গেছে, প্রতীক পাওয়ার পর শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারে নামবেন জাহাঙ্গীর। তার প্রচার ব্যাপক করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আমানউল্লাহ আমানের নেতৃত্বে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল বুধবারও ঢাকা-১৮ আসনের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এসএম জাহাঙ্গীরের নির্বাচনী প্রচার নির্বিঘেœ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি যতই প্রস্তুতি নিক তা আমাদের প্রস্তুতির কাছে কিছুই নয়। আমরা সবাই স্থানীয়। গুলশানে হামলার ঘটনায় বিচার না করায় মহাসচিবের বাসায় ডিম নিক্ষেপ, ঝাড়– মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও নগরজুড়ে পোস্টার সাঁটিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। এটি শক্তি না থাকলে সম্ভব হতো না।

এ অংশের এক নেতা জানান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও তাদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। গুলশানের ঘটনায় দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে তদন্তের দায়িত্ব দিলেও মারামারির ঘটনায় তিনি কোনো প্রার্থীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি। সেই খোকনও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য। ক্ষুব্ধরা বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আমানউল্লাহ আমান গ্রুপেরই নেতা খোকন। এখন মনে হচ্ছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পেছনে শুধু খোকন একা নয়, আর অনেকে আছেন। তাদেরও আমরা প্রতিহত করব। আমাদের হারানোর কিছু নেই।

 

 

 

 

advertisement
Evaly
advertisement