advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

হালদায় ডলফিন হত্যা বন্ধে নেই পদক্ষেপ

মো. হাবিবুর রহমান, রাউজান
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২৩:০৩
advertisement

মিঠা পানির মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চট্টগ্রামের হালদা নদী বিশ্বেই অনন্য। কিন্তু দখল-দূষণ ও বাঁধের জন্য নদী তার বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। একের পর এক হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে অতিবিপন্ন প্রজাতির ডলফিন। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের। তারাও ডলফিনের মৃত্যুর কারণ খোঁজা এবং লোক দেখানো অভিযান ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। যদিও বা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন থেকে ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। কয়েকটি গ্রুপের মাধ্যমে প্রতি দুদিন পর অভিযানও চলবে নিয়মিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হালদা নদীতে এ পর্যন্ত ২৭টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর গায়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর বিকালে রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে মৃত একটি ডলফিন উদ্ধার করা হয়। ক্ষত-বিক্ষত মৃত প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪৬ ইঞ্চি। হালদাপাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, বালিবাহী ড্রেজার, ইঞ্জিনচালিত নৌযান আর জাল পাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করা না গেলে ডলফিন হত্যা রোধ সম্ভব নয়। আর ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল বন্ধ করতে হলে সেখানে নৌ-থানা

স্থাপন করাও জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রাউজান উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পীযূষ প্রভাকর আমাদের সময়কে বলেন, ‘ডলফিন হত্যার বিষয়টি আমাদের মৎস্য বিভাগ তদারক করে না। এটি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাজ।’ তবে হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নৌ-থানা স্থাপনের জন্য নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যে দাবি সে বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নৌ-থানা স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছিল। তবে সেটি হচ্ছে না, হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে অবশ্য একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন বাস্তবায়নাধীন। আশা করছি আগামী মার্চে এটি বাস্তবায়ন হবে।

এদিকে হালদায় একের পর এক ডলফিন হত্যার বিষয়ে কথা বলতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। তবে প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম জেলার ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘হালদা নদীতে অবৈধভাবে পাতানো জালে আটকে ডলফিন মারা যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত ১৯ অক্টোবর বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে দুই হাজার মিটার জাল জব্দ করেছি। দুজনকে সতর্কও করেছি।’ জালে আটকে ডলফিনের মৃত্যু হলে আঘাতের চিহ্ন কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিষয়েও তাদারক করছি। যদিও হালদা নদীর ডলফিন রক্ষায় আমাদের আলাদা কোনো প্রকল্প নেই। একটি এনজিও সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। তারাও কেবল ডলফিনের জন্য না, মা-মাছ রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেখভাল করে থাকে। এর পরও আগামীতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘বিশ্বের যত প্রাণী ঝুঁকির মুখে এই ডলফিন তাদের অন্যতম। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী ডলফিনের জন্য অন্যতম আবাসস্থল। তারা নিরাপদেই ছিল। সংখ্যাটাও ভালো ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ করেই এদের হত্যা বেড়ে যায়। গত তিন বছরে এ পর্যন্ত ২৭টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো মূলত মাছ ধরার জালে আটকে, হালদা নদীতে চলাচলরত ড্রেজার, ইঞ্জিনচালিত নৌযান আর মৎস্য শিকারিদের অপতৎপরতায় মারা গেছে বলে ধারণা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হালদায় ১৭০টি ডলফিন থাকার বিষয়টি ধারণা করছি। তবে গত তিন বছরে হত্যা বাড়লেও এর প্রজনন কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।’

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, ‘হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য তথা ডলফিন রক্ষায় রাউজান উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ জাল পাতা রোধ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল ও ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। হালদা নদীতে অপরাধ তৎপরতা চালিয়ে কেউ পার পাবে না।’

advertisement
Evaly
advertisement