advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অস্ত্রের মুখে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ যুবলীগ নেতার

গণধর্ষণের শিকার কিশোরী

আমাদের সময় ডেস্ক
২২ অক্টোবর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২০ ২৩:০৩
advertisement

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘুরতে যাওয়া গৃহবধূকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ধর্ষণের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই শুরু হয় তোলপাড়। আন্দোলনের মুখে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান জারি হয়েছে। কিন্তু তাতেও থেমে নেই শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণকা-। গতকাল বুধবারও নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে তারই গ্রামের পাঁচ বখাটে। এ ছাড়াও ধর্মপাশায় গৃহবধূ, সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, বগুড়ার শেরপুরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়।

নোয়াখালী : জেলার চাটখিল উপজেলার নোয়খলা ইউনিয়নে বুধবার ভোরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে (২৯) ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ। এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল রহমান শরীফকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওয়াতিরবাড়ীর রফিকুল ইসলাম খোকনের ছেলে শরীফ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গৃহবধূর অভিযোগ, দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে নিজ

কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। বুধবার ভোরে শরীফ তার ঘরে ঢুকে হাত-মুখ চেপে ধরে অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে। এ সময় ভিকটিমের শিশু সন্তানরা জেগে গেলে ধর্ষক তাদেরও হত্যার হুমকি দিয়ে অন্য একটি কক্ষে আটকে রাখে। এমনকি ধর্ষণের পর নির্যাতিতকে বিবস্ত্র করে নিজের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিয়ে যায় শরীফ।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাটখিল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। শরীফের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, মারামারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঘটনায় আটটি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি আনোয়ার।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) : বছর চৌদ্দের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে তারই গ্রামের পাঁচ বখাটে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাইরগাঁও গ্রামে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী রাত সাড়ে ১০টায় প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে গ্রামের পাঁচ বখাটে পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং রাতেই অভিভাবকদের বিষয়টি জানায় কিশোরী। কিন্তু ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আত্মীয়স্বজন এ ঘটনায় মামলা করতে দেয়নি। আপসে মীমাংসার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালায়। গতকাল বুধবার মেয়েটি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. নাজির আলম বলেন, ‘ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা জানার পর পরই এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছি।’

শেরপুর (বগুড়া) : বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শেরপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত সোমবারের ওই ঘটনায় একই গ্রামের বকুল প্রামাণিকের ছেলে মামুন প্রামাণিক এবং তার সহযোগী হৃদয় হাসান ওরফে রাব্বীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপরদিকে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের ছোনকা বাজারে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে রবিউল ইসলাম নামে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রবিউল দড়ি হাসড়া গ্রামের মোসলিমউদ্দিনের ছেলে এবং বেলগাছি দাখিল মাদ্রাসার কৃষিবিষয়ক শিক্ষক। ঘটনা দুটির বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগটিও পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) : গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো ইছামারি গ্রামের মৃত রমুজ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম এবং একই গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে ওয়াহেদ আলী। এর মধ্যে ওয়াহেদ গৃহবধূর স্বামীর দুলাভাই। গত মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মধ্যনগর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গৃহবধূ নিজেই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পঠানো হয়েছে। আর বুধবার সকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিশু মেয়েটিকে পাশের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে ১২ বছরের আরেক শিশু। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসাছাত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে করাগারে পাঠানো হয়েছে।

মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) : মতলব দক্ষিণ উপজেলার চরমুকুন্দি গ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। গত রবিবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন কিশোরীর মা। পুলিশ এই রাতেই অভিযুক্ত স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। ওসি স্বপন কুমার আইচ এ তথ্য জানিয়েছেন।

advertisement
Evaly
advertisement